নারী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এ বিষয়ে আবাসিক হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপাচার্য বলেন, যেসব মেয়েরা অসচ্ছলতার মধ্যে আছে, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আছে, তাদের আর্থিক সুরক্ষা দেয়া জরুরি। তাদের তালিকা প্রণয়ন ও সহযোগিতা প্রদান করা দরকার। এটি কোনো অমর্যাদা বা অসম্মানের বিষয় নয়। আর্থিক সংকট কিংবা অসচ্ছলতা কোনো ব্যর্থতা নয়। বরং এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে পারাটা মর্যাদার। সম্মানের।

গতকাল সন্ধ্যায় সপ্তম শামসুন নাহার মাহমুদ স্মৃতি বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৩-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হল ডিবেটিং ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় গণমাধ্যম সহযোগী ছিল বণিক বার্তা।

ওই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী হয়েছে বিরোধী দল হাউজ অব ডিবেটরস এবং রানার্সআপ হয়েছে বঙ্গবন্ধু হল ডিবেটিং ক্লাব। শ্রেষ্ঠ বক্তা হয়েছেন সরকারি দলের মন্ত্রী রিহাদ রনি। বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই সংসদ মনে করে, নারীবাদী আন্দোলনের স্থানীয় সংস্কৃতি এবং রীতিনীতি আমলে নিয়ে, তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে শামসুন নাহার মাহমুদের জীবন ও কর্মের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘শামসুন নাহার মাহমুদ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করা একটি বড় বিদ্যা। যে মেয়েটি নানা ধরনের প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে উঠতে পারবে, সে-ই শামসুন নাহার মাহমুদের উচ্চতায় পৌঁছবে। দেশ-বিদেশের যেসব মহীয়সী নারী সফলতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পদার্পণ করেছেন, বিতর্কের মতো কো-কারিকুলার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারা।’ এর মধ্য দিয়ে নারী শিক্ষার্থীরা বাস্তবিক শিক্ষা অর্জন করবে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন বলেন, ‘আমাদের সমাজে নারীর ভূমিকাকে সেভাবে মূল্যায়িত করা হয় না। মুক্তিযুদ্ধের সময় নারীরা নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন। অথচ তাদের আমরা বীরাঙ্গনা হিসেবেই জানি। কিন্তু আমাদের জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে তাদের ভূমিকাও কম নয়।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শামসুন নাহার হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল, ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর সঞ্চারি প্রতিভা, ঢাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার শিউলি আফসার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মাহবুব মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন।