জয়পুরহাট সদর উপজেলার মীরগ্রামে এক সেনা সদস্যকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে আমদই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহানুর আলম সাবুকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার বিকালে জয়পুরহাট শহরের পুরাতন বাজার ধানমন্ডী এলাকা থেকে সাবুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে র্যাব তাকে জয়পুরহাট সদর থানায় সোপর্দ করে।

গ্রেফতারকৃত চেয়ারম্যানকে পুলিশ সন্ধ্যায় জয়পুরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে নিয়ে গেলে  তিনি তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেনা সদস্য রুহুল আমিনের চাচা মাহফুজুল হক বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।

র্যাব-৫, জয়পুরহাট ক্যাম্পের কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জয়পুরহাট সদর উপজেলার আমদই ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে জমিসংক্রান্ত বিরোধে সেনা সদস্য রুহুল আমিন ও আব্দুল ওহাবের মধ্যে বাগিবতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিনই বিকালে রুহুল আমিনকে চৌমুহনী বাজারে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান তার অফিস ঘরে ডেকে নিয়ে আসেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আমদই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আমদই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহানুর আলম সাবু। তিনি আপসনামার একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে সেনা সদস্য রুহুল আমিনকে চাপ দেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান সাবু লাঠি দিয়ে সেনা সদস্যের মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বগুড়া সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।

আহত সেনা সদস্যের চাচার দায়ের করা মামলায় অন্য আসামিরা হলেন ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান, নুর মোহাম্মদ ও আব্দুল ওহাব। তারা পলাতক।