পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এমপি বলেছেন, হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণকাজে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা হোক বা যে কেউ জড়িত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনিয়মকে আমরা কোনোভাবে সহ্য করব না। গতকাল দুপুরে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওর পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

উপমন্ত্রী বলেন, হাওরে ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণকাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আপনারা জানেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের একটি টাস্কফোর্স টিম আছে। এ টিমের সদস্যরা কাজের গুণগত মান বজায় রাখার জন্য এসব তদারকি করেন। এখানে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে সেজন্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এরই মধ্যে সবার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।

উপমন্ত্রী আরো বলেন, কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধ ভেঙে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড সবসময় আগাম প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। যেখানে দুর্যোগ হয় সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত আমরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওরবাসীর জন্য খুব আন্তরিক। এজন্য প্রতি বছর সরকার হাওরের মানুষের বোরো ধান গোলায় তোলার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। প্রতি বছর কাজ করার চেয়ে স্থায়ীভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করছি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে। হাওরাঞ্চলের সব নদী ড্রেজিং করে দেব, যাতে নাব্যতা এবং পানির ধারণক্ষমতা বাড়ে। এ প্রকল্পেগুলোকে আমরা স্থায়ীভাবে করব। যাতে প্রতি বছর আর অস্থায়ীভাবে ১০০-১৫০ কোটি টাকা খরচ না করতে হয়।  বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতা বেড়েছে। উপকূল অঞ্চলে সুপার টাইড করে দিচ্ছি আমরা। এতে স্থায়ীভাবে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা হচ্ছে। হাওরাঞ্চলের  মানুষও যেন ভালোভাবে বর্ষা মৌসুমে ফসল ঘরে তুলতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে দুটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ব্যাপারে উপমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের সহযোগিতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীমা শাহরিয়ার, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বজলুর রশিদ, প্রধান প্রকোশলী এসএম শহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার, নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর-১) জহুরুল ইসলাম, পওর-২ মো. সামসুদ্দোহা প্রমুখ।