বাজারে গোখাদ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী। চিকিৎসা ব্যয়ও বেশি। এদিকে রয়েছে লকডাউনের প্রভাব। ফলে পশু বিক্রি হ্রাস ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন পশু ব্যবসায়ীরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, জেলায় অনলাইনে বিক্রি বাড়াতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলায় কোরবানি পশুর চাহিদা ও উৎপাদনে এবার ভারসাম্য রয়েছে। বাইরে থেকে গবাদিপশু আমদানির প্রয়োজন পড়বে না। স্থানীয় খামারিদের পশু দিয়েই জেলার চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

সম্প্রতি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরসংলগ্ন কয়েকটি খামারে গিয়ে দেখা যায়, ঈদুল আজহা সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন পশু খামারিরা। দানাদার খাবারের পাশাপাশি হাওরাঞ্চল থেকে ট্রাকে করে আনা হচ্ছে সবুজ ঘাস।

এ সময় কথা হয় স্থানীয় শরিফা ডেইরি খামারের মালিক সাইদুল ইসলাম বাচ্চুর সঙ্গে। তিনি জানান, বছর দুয়েক আগে তিনি গড়ে তুলেছেন এ পশু খামার। বর্তমানে খামারে ৭০টি ষাঁড় মোটাতাজা করা হচ্ছে। সবই দেশী প্রজাতির। রয়েছে কিছু ছাগলও। এগুলো লালন-পালন ও মোটাতাজা করতে এখন পর্যন্ত তার প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন বিক্রি নিয়ে আছেন দুশ্চিন্তায়।

খামারের ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম জানান, গোখাদ্যের দাম বাড়ায় আগের চেয়ে এবার ব্যয় বেড়েছে। তবে তারা অনলাইনে পশু বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। অনেক ক্রেতা খামারে এসেও পশু পছন্দ করে কিনে নেন। তাদের খামারের নিজস্ব গাড়িতে বিনামূল্যে পশু ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

খামারিরা জানান, কভিড পরিস্থিতির কারণে মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দফায় দফায় লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্যে লোকসানের প্রভাব পড়তে পারে কোরবানি হাটে। এজন্য এ বছর কোরবানি পশুর দরপতনের আশঙ্কা করছেন তারা। তাছাড়া বৈধ-অবৈধ উপায়ে ভারত থেকে যদি পশু আসে, তাহলে নিশ্চিত ক্ষতির মুখে পড়তে হবে স্থানীয় খামারিদের। দেশের বাইরে থেকে যাতে পশু না আসে সরকারের প্রতি সেই দাবি জানান তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর ঈদুল আজহায় মৌলভীবাজারে ৭৩ হাজার ৩৫টি কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় ২ হাজার ৩৬৫টি খামারসহ ব্যক্তি উদ্যোগে মোট ৬৭ হাজার ৫২৯টি পশু কোরবানির জন্য মোটাতাজা করা হয়েছে। সংকট রয়েছে ৫ হাজার ৫০৬টি পশুর।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস ছামাদ জানান, স্থানীয় খামারিদের পশু দিয়ে জেলার শতভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব। যে ৫ হাজার ৫০৬টি পশুর ঘাটতি রয়েছে, সেটিও স্থানীয়ভাবেই পূরণ সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে যাতে গবাদিপশু প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে।