জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কম্পিউটার
সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে ন্যাশনাল কলেজিয়েট
প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (এনসিপিসি)। এতে অংশ নিচ্ছে সারাদেশের প্রায় ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (৮ মার্চ) বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন
ঘোষণা করেন। এ সময় উপাচার্য বলেন, প্রতিযোগিতা কেবল একটি বিজয়ের মাধ্যম নয়, বরং এটি
নতুন ধারণা ও সম্ভাবনা আদান-প্রদানের এক অনন্য মাধ্যম। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা
তাদের দক্ষতা এবং জ্ঞানের সীমা প্রসারিত করতে সক্ষম হয়। এই আয়োজনের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রযুক্তির শিক্ষার
পাশাপাশি সমাজে চেতনা বিকাশে প্রত্যয় দেখাতে পারবে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের
শিক্ষা চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং বাস্তব বিশ্বের সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবতে
ও সমাধান করতে উৎসাহিত করবে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননীয় (ডিস্টিংগুইশড)
অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, এই প্রোগ্রামিং কনটেস্ট আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিএসই বিভাগ
একটি অসাধারণ অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ তার মস্তিষ্ক। জাহাঙ্গীরনগরে
এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও দেশের শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্কের শ্রেষ্ঠত্ব
প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশে গত ২৫ বছর ধরে এই প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার
আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে দেশের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার দ্যুতি প্রকাশ করছে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ব প্রোগ্রামিং চ্যাম্পিয়নশিপে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৪ বার অংশগ্রহণ করেছে। যেখানে গত প্রায় ৪৫ বছরে বিশ্বের
মাত্র ৪৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিংয়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেতে পেরেছে।
এছাড়া দেশের মাত্র ৮টি বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, দেশের
শিক্ষার্থীদের গুগল, আইবিএম ও মাইক্রোসফটের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ
রয়েছে। এরই অনেকে এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। অনেক নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরার
বিশ্বের এসব প্রতিষ্ঠানে যোগদান করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর কম্পিউটার সায়েন্স
অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে রিহার্সাল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল শনিবার প্রতিযোগিতা
অনুষ্ঠিত হবে এবং সন্ধ্যায় বিজয়ী প্রথম দশটি দলকে প্রাইজ মানি ও ক্রেস্ট দেয়া হবে।
পাশাপাশি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে ট্রফি দেয়া হবে। এই প্রতিযোগিতায়
সরকারি ও বেসরকারি ৭১টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০টি দলে ৬০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন।
যাদেরকে ১১০০টি দলের মধ্য থেকে অনলাইন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাই করা হয়েছে। সিএসই
বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক স্বর্ণালী বসাকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরো
বক্তব্য রাখেন গণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ, সিএসই বিভাগের
সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোয়াজ্জেম, অধ্যাপক ড. যুগল কৃষ্ণ দাস, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ
জাহিদুর রহমান, বিভাগের, সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলামসহ আরো অনেকে।










