মহাসড়কে
দুর্ঘটনাকবলিত মানুষের দ্রুত চিকিৎসা দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের পাশে নির্মাণ করা হয় ইলিয়াস আহমেদ
চৌধুরী ট্রমা সেন্টার। ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর ট্রমা
সেন্টারটি উদ্বোধন করা হলেও জনবলের অভাবে চালু করা যায়নি। অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে
থাকা ট্রমা সেন্টারে দুবার চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে স্থানীয়
বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তবে উদ্বোধনের প্রায় দেড় বছর স্বাস্থ্যসেবা চালুর আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ
মন্ত্রণালয়ে সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম।
গতকাল দুপুরে তিনি বরিশাল যাওয়ার পথে মাদারীপুরের শিবচরে ট্রমা সেন্টারটি পরিদর্শন করেন। এ সময় স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘এক মাসের মধ্যে এখানে জনবল নিয়োগ দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। তবে ট্রমা সেন্টারটি না হলেও আংশিকভাবে চালু করা হবে। যাতে দুর্ঘটনাকবলিত মানুষ চিকিৎসা নিতে পারে। এখানে ডাক্তার ও নার্স দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রায় দেড় বছর পরও ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে সেবামূলক এ প্রতিষ্ঠানটি। মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো প্রায় ১৭টি ট্রমা সেন্টার রয়েছে। সেগুলো ধীরে ধীরে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার উপযোগী করে তুলব। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জনবল সংকট ছিল, এখনো রয়েছে। তবে আমরা জনবল নিয়োগ দিচ্ছি। এ সমস্যা আর থাকবে না। বিশেষ করে ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ট্রমা সেন্টারে জনবল নিয়োগ করে এক মাসের মধ্যে চিকিৎসাসেবা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় করে ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়। এতে অর্থায়ন করেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রায় তিন বছর আগে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। তারও এক বছর পর ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর ট্রমা সেন্টারটি উদ্বোধন করা হয়। জনবল কাঠামো অনুযায়ী ডাক্তার তো দূরের কথা এখন পর্যন্ত একজন কর্মচারীও নিয়োগ দেয়া হয়নি। এমনকি কোনো পদও সৃজন করা হয় হয়নি। তবে সাতজন পরামর্শক চিকিৎসক, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেস্থেসিস্ট, দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা, ১৪ চিকিৎসক, ১০ নার্স এবং ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার, টেকনিশিয়ানসহ ৩৪টি পদ সৃজনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত আধুনিক মানের এই ট্রমা সেন্টারটি দুর্ঘটনাকবলিত কোনো রোগীর চিকিৎসায় কাজে আসেনি।










