রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকালে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী আমলে হামলা-নির্যাতন উপেক্ষা করেও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ সামনে এসেছে।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, যেকোনো মূল্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগ গ্রহণ করা জরুরি। নিজেদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার চর্চা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সক্রিয় থাকতে হবে। শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধভাবে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে হবে এবং রাষ্ট্র-রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠতে হবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর সবাইকে ‘বাঙালি’ বানানোর প্রচেষ্টা ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মনে অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল। তবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শনের মাধ্যমে সেই কষ্ট দূর করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি হলো- ভাষা, গোত্র, ধর্ম বা মতাদর্শ যার যাই হোক না কেন, আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা বাংলাদেশী। পাহাড়, সমতল, শহর, বন্দর বা প্রত্যন্ত গ্রাম যেখানেই বসবাস হোক না কেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো একেকটি রং, যাকে আমরা বলি ‘রেইনবো নেশন’।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকের দিনটি আনন্দের, কারণ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে জাতীয়তাবাদের দর্শন জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, তার আলোকে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো আজ একত্রিত হয়েছে। তারা উন্নয়নমূলক কাজে অন্তর্ভুক্ত হতে চায়।
তিনি বলেন, দানবীয় ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ নির্যাতনের শাসনের পর আমরা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি। এই বাংলাদেশে সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, অতীতে সবসময় সুবিচার করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত ৩১ দফাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল চাবিকাঠি। এর মধ্যে রেইনবো বাংলাদেশের ধারণা রয়েছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সত্যিকারের রেইনবো স্টেট গড়তে চাই।
জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মৃগেন হাগিদকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলাম, উত্তর জেলা আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম এনায়েত উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং, আদিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রমোদ চন্দ্র বর্মনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সম্মেলনে দেশের সমতল অঞ্চলের ১২ জেলার বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রায় এক হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন।















