সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিবুর রহমান স্বপনের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়েছে। ফলে এ আসনে আসন্ন উপনির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি, এমন প্রশ্ন দলীয় নেতাকর্মীসহ উপজেলাবাসীর মুখে মুখে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দলের জন্য যারা সবসময় কাজ করেছেন, নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় মানুষের পাশে ছিলেন, গণভিত্তি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, এমন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবে হাইকমান্ড। এরই মধ্যে উপজেলায় চলছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা। এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে নানা ধরনের প্রচার।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলাম। তার পক্ষে কর্মী-সমর্থকরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানাভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। সাবেক দুবারের সংসদ সদস্য হওয়ায় চয়ন ইসলামকেই দল থেকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তার অনুসারীরা।
মনোনয়নের দৌড়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হালিমুল হক মিরু। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় তিনি চষে বেড়াচ্ছেন পৌর এলাকাসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা। দুবার শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র থাকার সুবাদে তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি।
উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলামের বোন অধ্যাপক মেরিনা জাহান কবিতা। তিনি শাহজাদপুর আওয়ামী লীগের একাংশকে নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এরই মধ্যে তিনি এ আসনে নানা সামাজিক আচার অনুষ্ঠান করেছেন। মনোনয়নের লড়াইয়ে তিনি আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। শাহজাদপুরের রাজনীতিতে কয়েক বছর ধরে পোস্টার, বিলবোর্ড ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন।
এ আসনে মনোনয়ন চাইছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মিল্কভিটার পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী পরিবারের সন্তান ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন। তিনিও উপজেলার সর্বত্র পোস্টার ও বিলবোর্ড দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন। তার কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্নভাবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পরিচিত মুখ ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী তার সমর্থকরা।
মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকারী সদস্য, মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান, পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ লাভলু। তার পক্ষ থেকেও সোস্যাল মিডিয়ায় চলছে প্রচার। এছাড়া মনোনয়ন চাইতে পারেন মরহুম হাসিবুর রহমান স্বপনের অনুসারীদের পক্ষ থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অন্য কোনো নেতা। এক সময়ের বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতারাই একে-অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী। উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, ক্ষমতাসীন দলে প্রার্থী সবসময়ই বেশি থাকে। দল তো ক্ষমতায়, সবাই মনোনয়ন চায়। হেরে গেলে তখন আবার দেখা যাবে প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না, যেমন বিএনপি এখন প্রার্থী পাচ্ছে না। সবাই জয়ী পার্টির সঙ্গে থাকতে চায়। দলের জন্য কাজ ও এলাকায় জনপ্রিয়তার বিষয়টি দেখে কেন্দ্র প্রার্থী মনোনীত করবে।










