আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, যে মামলায় সাজা হয়ে গেছে। সেটা যতই মিথ্যা, অবিশ্বাস্য, ষড়যন্ত্রমূলক মামলা হোক না কেন, এটা শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট গভর্মেন্ট আমলের। ওখানে যদি ফরমায়েশি রায় হয়, সে রায় আমি বা আপনি মিথ্যা বা ষড়যন্ত্রমূলক জানলেও, ফরমায়েশি রায় তো আপনি ইচ্ছা করলেই এটাকে প্রত্যাহার করতে পারেন না, যদি শাস্তি হয়ে যায়। শাস্তি হয়ে গেলে যত ভুল শাস্তি হোক না কেন, যার বিরুদ্ধে শাস্তি হয়েছে, ওনার আবেদন ছাড়া স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো কিছু করার নেই।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, আপনারা জানেন যে আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করার এক মাসের মাথায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যেটা আছে, এক মাস শেষ হওয়ার আগেই আমরা প্রসিকিউশন টিমের নিয়োগ দিয়েছিলাম। এর কিছু দিন পর ইনভেস্টিগেশন যে টিম আছে সেখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।
বিচারপতি সংকটে এটি গঠিত হচ্ছিল না উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, এখন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নতুন বিচারপতি নিয়োগ হওয়ার পরবর্তী সময়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে হাইকোর্টে দুজন বিচারক এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা এবং দায়রা জজকে নিয়ে আমাদের মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ বিরোধী ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের যা করার ছিল সেটা সম্পন্ন হয়েছে। এখানে চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য হিসেবে আছেন হাইকোর্টের আরেকজন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আইন উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থানে যাদের হত্যা করা হয়েছে, গুলি লেগেছে, চোখ হারিয়েছেন তাদের ন্যায়বিচার পেতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আর দুয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে কাজ শুরু করবে।
তিনি বলেন, সাড়ে চার হাজার পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার আবেদন এসেছে। তাই পিপি নিয়োগে দেরি হয়েছে। ঢাকা জেলায় সাড়ে ৭০০ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে করা মামলা প্রত্যাহার করতে আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হবে। যে মামলার চার্জশিট হয়েছে তা প্রত্যাহার করতে পিপিকে আবেদন করতে হয়, পিপি না থাকায় মামলা প্রত্যাহারের কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। যেসব মামলার চার্জশিট হয়নি তা হয়তো প্রত্যাহার করা যায় তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করে তা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, জুলাই-আগস্টে গণহত্যার জন্য যারা হুমকি দিয়েছেন, তারা অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন, অনেকে পালিয়ে গেছেন। পালিয়ে থাকা আসামিদের বিচারের সুযোগ রয়েছে এখানে। বিচার হলে যেসব দেশের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে সেসব দেশ থেকে আসামিদের ফেরত আনা হবে। যেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি নেই তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
আসিফ নজরুল বলেন, দোষী সাব্যস্ত হলে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ভারতে থাকলে ফেরত আনা সহজ, আর দোষী সাব্যস্ত হবার সময় কোন দেশে থাকবেন তা জেনে প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।










