সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার পোড়াবাড়ী-কামারখন্দ-নলকা সড়কের সংস্কার হয়নি দীর্ঘদিন। ফলে কার্পেটিং উঠে বেহাল হয়ে পড়েছে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের প্রায় ১২ কিলোমিটারের অধিকাংশ স্থান। অসংখ্য খানাখন্দে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।
স্থানীয়রা জানান, পোড়াবাড়ী-নলকা সড়ক দিয়ে কামারখন্দ সদরের পাশাপাশি উল্লাপাড়া ও সদর উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ফলে কামারখন্দসহ আশপাশের মানুষের জন্য সড়কটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এক যুগ ধরে সংস্কার না করায় সড়কটির ১২ কিলোমিটার বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষার সময় বড় বড় গর্তে পানি জমে দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। গর্তে যানবাহন উল্টে ঘটে দুর্ঘটনা।
তারা আরো জানান, কামারখন্দ উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এ পথেই যেতে হয়। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ। তাছাড়া এ অঞ্চলের কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু বেহাল সড়কের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এসব কাজে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
ভ্যানচালক আমির হোসেন ও আব্দুল মজিদ বলেন, বর্তমানে সড়কটির অধিকাংশ স্থানই ভাঙা। মাঝে মধ্যেই গর্তে পড়ে ভ্যান উল্টে যাত্রীরা আহত হন। প্রতিনিয়ত এ পথে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও সড়কটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আবু রায়হান বলেন, সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কখন যে বড় বড় খানাখন্দে পড়ে অটোরিকশা উল্টো যায়, তার কোনো ঠিক নেই।
এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ সবুজ বলেন, পোড়াবাড়ী-কামারখন্দ-নলকা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মানুষ খুব কষ্ট করে চলাচল করছে। সড়কটি সংস্কারে সংশ্লিষ্টদের বারবার তাগিদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। হাজারো মানুষের ভোগান্তি দূর করতে তিনি অবিলম্বে এর সংস্কারের দাবি জানান।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রাং বলেন, আপাতত ওই সড়ক মেরামতের জন্য আমাদের কোনো বরাদ্দ নেই। তবে সড়কটির যেসব অংশে খানাখন্দ বেশি, সেসব অংশ সংস্কার করা হবে। আশা করা হচ্ছে, সড়ক বিভাগের ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দের অর্থায়নে এ বছরের মধ্যেই তিন-চার কিলোমিটার সংস্কার করা সম্ভব হবে।










