টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর-ই খোদা রায়েজ স্ট্রোক করলে স্বজনরা তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় তাকে তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ফ্লোরে ফেলে রাখা হয়। পরে কর্তব্যরত নার্স একটি ইনজেকশন দিতে হবে বলে স্বজনদের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দেয়ার পর অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে ইনজেকশন দেয়া হলেও কোনো ডাক্তার তাকে দেখেননি। রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা রায়েজ মারা যান। এ সময় স্বজনরা চিকিৎসার অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভাংচুর চালায়। পরে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শফিকুল ইসলাম সজিব বেশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে মুক্তিযোদ্ধার স্বজনদের ওপর হামলা চালান। এ সময় কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন। এক পর্যায়ে স্বজনরা মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ নিয়ে বাড়ি যেতে চাইলে বাধা দেন হাসপাতালের আরএমও। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফা বলেন, তার সামনেই আবাসিক মেডিকেল অফিসার তার লোকজন নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বজনদের ওপর হামলা চালিয়ে মরদেহ নিতে বাধা দিয়েছেন। তিনি অভিযুক্ত আরএমওর শাস্তি দাবি করেছেন।

এদিকে আবাসিক মেডিকেল অফিসার শফিকুল ইসলাম সজিব চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পাল্টা রোগীর স্বজনরাই তাকে মারতে গেছেন।