দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়েরের সংখ্যা কমছে। ২০২২ সালের চেয়ে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে ৩ হাজার ৯০১টি অভিযোগ কম জমা পড়েছে। কমেছে অনুসন্ধানের জন্য নেয়া অভিযোগের সংখ্যাও। অথচ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণাসূচকে দুই ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। তালিকায় ১৮০টি দেশের মধ্যে দশম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। দুদক সূত্র বলছে, অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার না মেলায় মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সেজন্য অভিযোগ দাখিলের হার কমেছে। তবে গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ অভিযোগপত্র (চার্জশিট) অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
সংস্থাটির ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ওই বছর পাওয়া ১৫ হাজার ৪৩৭টি অভিযোগের মধ্যে নিষ্পন্ন বা পরিসমাপ্ত করা হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৯টি। অনুসন্ধানের জন্য নেয়া হয়েছে ৮৪৫টি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে ৯১৩টি। ২০২২ সালে জমা পড়া ১৯ হাজার ৩৩৮টি অভিযোগের মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য নেয়া হয় ৯০১টি। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ৩ হাজার ৯০১টি অভিযোগ কম জমা পড়েছে। আর অনুসন্ধানের জন্য কম নেয়া হয়েছে ৫৬টি।
২০২১ সালে ১৪ হাজার ৭৮৯টি অভিযোগের মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য নেয়া হয় ৫৩৩টি। ২০২০ সালে ১৮ হাজার ৪৮৯টি অভিযোগের মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য নেয়া হয় ৮২২টি। ২০১৯ সালে ২১ হাজার ৩৭১টি অভিযোগের মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য নেয়া হয় ১ হাজার ৭১০টি। ২০২৩ সালে ৪০৪টি, ২০২২ সালে ৪০৬, ২০২১ সালে ৩৪৭, ২০২০ সালে ৩৪৮ ও ২০১৯ সালে ৩৬৩টি মামলা দায়ের করা হয়।
দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন) মঈদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় এবং অধিকাংশ অভিযোগ দুদকের তফসিল-বহির্ভূত হওয়ায় অনুসন্ধানের জন্য বিবেচিত হয় না। আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বেশির ভাগ অভিযোগ আসে মাদক, বিভাগীয় অনিয়মসংক্রান্ত কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশপ্রসূত। তাই যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। দুর্নীতির বদলে বিভাগীয় অনিয়ম দেখা গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দুদক পাঠায়। ফলে অভিযোগের তুলনায় অনুসন্ধানের সংখ্যা কম।’
দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটা সচিবকে জিজ্ঞাসা করেন। অভিযোগ কমতেই পারে।’ ২০২৩ সালে পাওয়া অভিযোগগুলোর মধ্যে সরাসরি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জনসাধারণের লিখিত অভিযোগ পড়েছে ৯ হাজার ২৬২টি। সরকারি দপ্তর ও সংস্থা থেকে এসেছে ৭৭১টি। বেসরকারি দপ্তর ও সংস্থা থেকে এসেছে ৩০৮টি। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে নেয়া হয়েছে ১ হাজার ৮০টি। কমিশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলো থেকে এসেছে ১ হাজার ৪৩৯টি। হটলাইন (১০৬) ও এনফোর্সমেন্ট থেকে ৪৬২টি এবং অন্যান্য (আদালত, ফেসবুক ও ই-মেইল) খাত থেকে ২ হাজার ১১৫টি অভিযোগ পেয়েছে দুদক। তবে অনুসন্ধানের জন্য স্ব-উদ্যোগে কোনো অভিযোগ নেয়া হয়নি।
২০২৩ সালে আগের অনিষ্পন্ন ৩ হাজার ৫০৫টি অনুসন্ধান ও নতুন ৯২৩টিসহ মোট অনুসন্ধান সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৪২৮। এর মধ্যে ১ হাজার ২০৬টি অনুসন্ধান সম্পন্ন করা হয়। মামলা দায়ের করা হয় ৪০৪টি। পরিসমাপ্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয় ৫৬২টি। অন্যান্যভাবে নিষ্পত্তি করা হয় ২৬১টি।
মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত আগের অনিষ্পন্ন ১১৫টি অনুসন্ধান ছিল। ২০২৩ সালে নেয়া ৩৩টিসহ মোট ১৪৮টি অনুসন্ধানের মধ্যে ১০টি অনুসন্ধান সম্পন্ন করা হয়। মামলা দায়ের করা হয় নয়টি। পরিসমাপ্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয় পাঁচটি। মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত আগের অনিষ্পন্ন ৮২টি ও নতুন ১০টিসহ চলমান ৯২টি তদন্তের মধ্যে পাঁচটি তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পাঁচটির চার্জশিট দাখিল করা হয়।
অনুসন্ধান শেষে তদন্ত সম্পন্ন করে দুদক। ২০২৩ সালে মোট তদন্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৬৪। এর মধ্যে নতুন তদন্ত ছিল ৪৪৩টি। আগের অনিষ্পন্ন ছিল ১ হাজার ৭২১টি। তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে ৪৫৯টি। চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে ৩৬৩টি।










