মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের বিভিন্ন  স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ধসে পড়ছে পলেস্তরা। বের হয়ে গিয়েছে ছাদের রড। এতে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় হাসপাতালে রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় হাওর ও চা বাগানঅধ্যুষিত এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষ চিকিৎসা সেবা পেতে বিড়ম্বনায় পড়েছে। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স স্থাপিত হয়েছিল। সেই থেকে উপজেলা সদরের এ হাসপাতালটি উপজেলাবাসীর চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। বর্তমানে উপজেলায় প্রায় তিন লাখ মানুষের বাস। বর্তমানে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের কার্যক্রম চলছে। কিন্তু নতুন ভবনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম স্থানান্তরের আগেই পুরনো ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, ছাদের পলেস্তরা ধসে পড়ায় রোগী, ডাক্তার, নার্স, অফিস স্টাফসহ সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরেজমিন ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এরপর তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ ও সভা কক্ষ ছাড়া অন্য কোথাও যাতায়াত ও কার্যক্রম পরিচালনা করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করেন। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভর্তি বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি বিভাগে এবং সভাকক্ষে বহির্বিভাগে রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। সিরিয়াস রোগী হলে তাদের মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এ অবস্থায় হাওর ও চা বাগানঅধ্যুষিত উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছে বিপাকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আফজালুর রহমান জানান, জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে রোগী ভর্তি বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি ও বহির্বিভাগে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। নতুন ভবনের কাজ শেষ হলে সমস্যাগুলো আর থাকবে না।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বণিক বার্তাকে বলেন, রোগী ভর্তি বন্ধ থাকায় মানুষের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।