কুষ্টিয়ায় বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোরে ও দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো পাঁচজন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

মৃতরা হলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বড় আইলচারা এলাকার মৃত হারুন অর রশিদের ছেলে শাহিনুর রশিদ (৪৭), মিরপুর উপজেলার মশান বারুইপাড়া গ্রামের মৃত হানিফের ছেলে রতন সেখ (২১) ও খলিলের ছেলে সবুজ হোসেন (২৩), হৃদয় হোসেন, ভেড়ামারা উপজেলার রকিবুল আলমের ছেলে সিফাতুল আলম (২৭)। এদের মধ্যে সিফাতুল কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, রোববার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করে অসুস্থ হয়ে বেশ কয়েকজন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পান তারা। তাদের মধ্য থেকে গতকাল ভোর রাতে শাহিন, রতন ও সিফাতুল নামের তিনজনের মৃত্যু হয়। দুপুরে মারা যান সবুজ ও হৃদয়। এ সময় একই হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন নামে বেনামে আরো ১০ জন। 

এদিকে এ মৃত্যুর পর পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে অ্যালকোহলের উৎস ছিল কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ সুইপার কলোনি। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম জানান, তথ্য অনুযায়ী মৃতরা কেউ কেউ মিলিতভাবে কলোনিতে বসে আবার কেউ পৃথকভাবে অন্যত্র এ অ্যালকোহল ক্রয় ও পান করেছিলেন।

পুলিশ সুপার আরো জানান ওই দিন রাতে মোট ৩০-৩৫ জন ওই কলোনি থেকে বিভিন্ন ধরনের মদ সংগ্রহ করেছিলেন। মদ সংগ্রহকারীরা বিভিন্ন স্থানে বসে মদ পান করেন। এর বাইরেও কেউ অসুস্থ রয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তাপস কুমার সরকার জানান, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তারা হাসপাতালে আসেন। এ রকম সাতজনকে রোববার রাত ৯টা থেকে দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা মূলত স্পিরিট পান করেন, যা ছিল রেক্টিফায়েড। সেখান থেকেই বিষক্রিয়া ঘটে।