বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নিজের ঘর থেকে শুভর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ সিদ্ধান্তের পেছনে প্রেমিকার পরিবারের নির্যাতন ও সামাজিক অপমানকে দায়ী করে গেছেন। ১ জানুয়ারি ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন শুভ।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোল্লা আফজাল হোসেন বলেন, ‘আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দু-একদিন আগে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে শীতের কারণে মরদেহে পচন ধরেনি।’
পুলিশ আরো জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে সেটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুভ বৈরাগী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শৈশবেই বাবা-মাকে হারানো শুভ বরিশালে থাকেন। তবে মাঝে মাঝে বাড়িতে এলে বৌলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওই ঘরটিতে থাকতেন।
শুভ বৈরাগীর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, কোটালীপাড়া উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে ওই তরুণীর জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতে তাদের বাড়িতে যান শুভ। সেখানে তরুণীর পরিবারের সদস্যরা তাকে আটকে ব্যাপক মারধর করেন।
শুভর অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পর্কের কথা স্বীকার করার পরও তরুণীর পরিবারের সদস্যরা তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক একটি ভিডিও ধারণ করে। সেখানে তাকে দিয়ে স্বীকার করানো হয় যে তিনি ওই বাড়িতে চুরি করতে গিয়েছিলেন। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। তিনি লেখেন, ‘এতে আমার মানসম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি কারো সামনে মুখ দেখাতে পারব না। তারা আমাকে জানে মারার চেয়েও বেশি মেরে ফেলেছে।’










