বগুড়া শহরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কারফিউ শিথিল রাখা হয়েছে। তবে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই বের হচ্ছে না। নিত্যপণ্য ছাড়া সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখনো পুরোপুরি খোলেনি। এখনো উৎকণ্ঠা নিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ঘরে ফিরছে মানুষ। শহরজুড়ে টহল অব্যাহত রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সন্ধ্যার পরই নীরবতা নেমে আসছে শহরে। ক্রেতা কম থাকায় পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি ব্যবসা-বাণিজ্য।

কোটা সংস্কার দাবিতে বগুড়ায় থেমে থেমে চারদিন ধরে চলে আন্দোলন। শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা, জলেশ্বরীতলা, মফিজ পাগলার মোড়, ইয়াকুবিয়া মোড়, জেলখানার মোড়, গোহাইল রোড, স্টেশন রোড, সেউজগাড়ী, তিনমাথা, থানা মোড়, বড়গোলা, দত্তবাড়িী, বাদুরতলা, চেলোপাড়া, কাঁঠালতলা, বনানী এলাকায় অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে শিক্ষার্থীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। ১৬ জুলাই দুপুর থেকে সন্ধ্যা, ১৭ জুলাই সকাল থেকে রাত, ১৮ ও ১৯ জুলাই দিনব্যাপী থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।

১৬ জুলাই আন্দোলন চলাকালে বগুড়া আযিযুল হক কলেজে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় চার শিক্ষার্থী আহত হন। একই দিন বেলা ৩টার দিকে শহরের সাতমাথায় ছাত্রলীগের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। ১৭ জুলাই থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ১৮ জুলাই শহরজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ১৯ জুলাই সেউজগাড়ী এলাকায় আন্দোলনকারীরা সড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। সারা দেশে কারফিউ জারি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি  স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করে। জেলা শহরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হলেও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছে না। নিত্যপণ্য ছাড়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি খোলেনি।

বগুড়া নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. রাজীব জানান, দোকান খোলা হয়েছে। তবে ক্রেতা নেই। অনেকের মনে ভয় কাজ করছে। কেনাকাটা করতে গিয়ে সংঘর্ষের মুখে পড়ার ভয়ে ক্রেতারা তেমন একটা আসছে না। বেশকিছু দোকান খোলা হলেও কেনাবেচা হচ্ছে না।

বগুড়া রাজাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ জানান, সব পণ্যের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা আসতে পারছেন না। এ কারণে ব্যবসায়ীরা পণ্য লোড-আনলোড করতে পারছেন না। ট্রাক চলাচল করলেও পণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ক্রেতা জানান, কয়েকদিন বগুড়ায় যে পরিমান ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও পুলিশের পক্ষ থেকে রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে, তার শব্দ এখনো কানে বাজছে। ভয়ে কোথাও বের হতে সাহস পাচ্ছেন না।

বগুড়া বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুর রহমান মিল্টন জানান, কৃষি যন্ত্রাংশ উৎপাদনে কিছুটা স্থিতি এসেছে। তবে শ্রমিকরা আসতে পারছেন না। অনেকেই আবার আসছেন। চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না। এ কারণে শিল্প মালিকরা ব্যবসা করতে পারছেন না। পরিস্থিতি দ্রুতই পরিবর্তন হয়ে গেলে আবারো ব্যবসা জমে উঠবে। সংকটও কেটে যাবে।