সেই নির্বাচনে কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমানকে মেয়র ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সময় হাইকোর্টের আদেশে গেজেট ও শপথ স্থগিত করা হলেও আপিল বিভাগে আপিলের সুযোগে মেয়র পদে বসে পড়েন অভিযুক্ত এ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা।

নির্বাচনের প্রায় পাঁচ বছর পর ‘ভোট কারচুপি’র মাধ্যমে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার বিষয়টি প্রমাণ হওয়ায় আদালতের আদেশে কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক মো. সুহেল আমিনকে বিজয়ী ঘোষণা করে ২ মার্চ সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিষয়টি সামনে আসে ৬ মার্চ।

ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত সংশোধিত গেজেটে বলা হয়, সেই সময় নির্বাচিত ঘোষণা করা লুৎফুর রহমানের নাম বাতিল করে সেখানে মো. সুহেল আমিনের নাম প্রতিস্থাপন করা হলো।

অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে নির্বাচনের পর পরই মামলা করেছিলেন বিএনপি নেতা সুহেল আমিন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিশ্বেশ্বর সিংহ গত ৭ জানুয়ারি প্রদত্ত রায়ে ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী মো. সুহেল আমিনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

জানা যায়, সুহেল আমিনের ভোট কম দেখিয়ে তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছিল এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী লুৎফুর রহমানকে ১৪৬ ভোট বেশি পেয়ে ‘নির্বাচিত হয়েছেন’ মর্মে মেয়র ঘোষণা করা হয়েছিল। অথচ গত ১০ নভেম্বর আদালতের সামনে ভোট পুনর্গণনায় দেখা গেছে—স্বতন্ত্র প্রার্থী সুহেল আমিন ৬৮৪ ভোট বেশি পেয়েছিলেন। এরপর ৭ জানুয়ারি প্রদত্ত রায়ে তাকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে আদেশ দেয়া হয়।