চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় শীতকালীন সবজির চাষ বেড়েছে এক হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদনও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক। উৎপাদন বাড়লেও কমেনি দাম। গত মৌসুমের তুলনায় অধিকাংশ শীতকালীন সবজির দাম ৩০-৪০ শতাংশ বেড়েছে।

অবশ্য ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা বলছেন, সাতক্ষীরায় উৎপাদিত অধিকাংশ সবজি চলে যাচ্ছে বাইরের জেলায়। ফলে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি থাকছে। এ কারণে দাম কমছে না শীতকালীন সবজির।

গতকাল জেলা সদরের সবচেয়ে বড় মোকাম সুলতানপুর বড় বাজারের কয়েকটি সবজির আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। ফুলকপি ৫০, মাটির নিচের আলু ৫৫, শিম ৬০, গাজর ৫০ এবং টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে।

সবজি ক্রেতা মুজিবর রহমান বলেন, ‘ভরা মৌসুমে সব ধরনের সবজির দাম বেশি। গত মৌসুমে যে বেগুন ৩৫-৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে, তা এ বছর ৭০ টাকা দিয়ে কিনতে হলো। একইভাবে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। এখন চারদিক থেকে বাজারে শিম উঠছে। অথচ প্রতি কেজি শিম ৬০ টাকা দাম। এ সময়ে টমেটোর দাম কমতির দিকে থাকে। কিন্তু এ বছর ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে টমেটো।’

শহরের পলাশপোল মহল্লার ইজিবাইক চালক সালাউদ্দিন জানান, অন্যান্য মৌসুমে ১০০-১২০ টাকার মধ্যে তিন থেকে চার প্রকার সবজি কেনা যেত। বর্তমানে ২৫০-৩০০ টাকা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সবজি মিরছে না। তাদের মতে নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে বাজার করতে এসে।’

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির আবাদ বেড়েছে। জেলার সাতটি উপজেলায় ৫ হাজার ৬০০ হেক্টর পরিমাণ জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে জেলায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর পরিমাণ জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছিল। সে অনুযায়ী চলতি মৌসুমে অন্তত ১ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ বেড়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা মার্কেটিং অফিসার আবু সালেহ মো. আব্দুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সবজিসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন শীত মৌসুমে বাজারে সব ধরনের সবজির সরবরাহ থাকে। জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং সদস্যরাও সবসময় বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। অতিরিক্ত মুনাফার জন্য যেসব ব্যবসায়ী সবজির দাম বাড়তি নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’