বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ৩২-৩৭ ব্যাচ পর্যন্ত প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির দাবিতে প্রভাষকদের কর্মবিরতি চলছে। টানা তিন দিনের এ কর্মবিরতিতে যোগদান করেছেন রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপকসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরাও। এতে করে তিনদিন ধরে বন্ধ রয়েছে পাঠদান, বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে তৈরি অচলাবস্থা কাটাতে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি বঞ্চিত (৩২-৩৭ ব্যাচ পর্যন্ত) যোগ্য প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির জিও জারি দাবিতে দেশব্যাপী বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার পরিষদের ডাকে কর্মবিরতি চলছে। জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাঙ্গামাটিতেও দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন প্রভাষকরা। তবে প্রভাষকদের এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছে অন্যান্য জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরাও।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকাল থেকে রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে ব্যানার টাঙিয়ে ‘নো প্রমোশন, নো ওয়ার্ক’ কর্মসূচি পালন করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদ। এতে সংহতি জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসিমুল হক।
কর্মবিরতি কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদ রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ইউনিটের সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, রাঙ্গামাটি সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সাদমান শাকিল। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা অ্যাসোসিয়েশন রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোহরাব হোসেনও।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা অ্যাসোসিয়েশন রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ইউনিটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদের রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ইউনিটের আহ্বায়ক ড. মো. খলিলুর রহমান, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, প্রভাষক বিজয়া চাকমা, মো. রিপন মিয়া, মো. ওয়ালিদ হোসেন , মো. আনোয়ার হোসাইন প্রমুখ।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদ রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ইউনিটের সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘গত ১৬ নভেম্বর থেকে সারা দেশজুড়ে প্রভাষক পরিষদের ডাকে নো প্রমোশন নো ওয়ার্ক কর্মসূচি চলছে। রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ইউনিট তথা জেলা ইউনিট এই কর্মসূচি তৃতীয় দিনের মতো চালিয়ে যাচ্ছে। যদি আজকের মধ্যে কোনো সমাধান না আসে সেক্ষেত্রে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি আসবে এবং আগামীকাল আমরা মাউশি ঘেরাও করব। পরে হয়তো সরকারি কলেজগুলো শাটডাউনে চলে যাবে।’
ইকবাল হোসেন আরও বলেন, ‘এর ফলে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত হবে, যার জন্য আমাদেরও খুব কষ্ট লাগছে। কারণ আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ক্লাস নেয়া, শিক্ষার্থীদের দেখভাল করা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমাদেরকে ক্লাসরুম ছেড়ে আজকে এখানে দাঁড়াতে হয়েছে, অবস্থান কর্মবিরতি পালন করতে হচ্ছে। আমরা আর্থিকভাবে যেমনি বঞ্চিত, সামাজিকভাবেও হেয়-প্রতিপন্ন। আমরা একটা মর্যাদাহীন অবস্থায় ভুগছি।’










