নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা একটি নতুন সংবিধানের জন্য মাঠে নেমেছি। বাংলাদেশের মানুষ নির্ধারণ করবে আগামীর সংবিধান কী হবে। আমরা একটি গণপরিষদ নির্বাচনের জন্য মাঠে নেমেছি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সংবিধান নির্ধারণ করবে। আওয়ামী লীগ গুম-খুন করেছে, জনগণের অধিকার হরণ করেছে। ফ্যাসিস্টরা এখনো লুকিয়ে আছে। শহীদ পরিবার ও তাদের স্বজনদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তারা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে জন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
আজ (২৭ জুলাই) রোববার দেশজুড়ে জুলাই পদযাত্রার ২৭তম দিনে নেত্রকোনা পৌর শহরের মোক্তারপাড়ায় পুরাতন কালেক্টরেট মাঠে ১০ উপজেলার দলীয় নেতাকর্মী, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত এবং নিহত পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এনসিপি আয়োজিত জনসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পরও মানুষের অধিকার আদায় হয়নি। সমাজে চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য তৈরি হয়েছে। এ জন্য আমাদের আবারো রাস্তায় নামতে হয়েছে। তরুণরা কোনো দাবি নিয়ে রাজপথে নামেনি বরং, দেশের দায়িত্ব নেয়ার জন্য রাজপথে নেমেছে। এ সময় তিনি মৌলিক সংস্কার করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
‘বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের লক্ষ্যে জনতার দুয়ারে’ এ স্লোগানে জনসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসলিম জারা, কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রিতম সোহাগ, কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান, রুহুল আমিন আইনী প্রমুখ। এ সময় দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, এহতেশামুল হক, মনিরা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক অর্পিতা শ্যামা দেব, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ডা. জাহেদুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার, যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আল হামিদ, কেন্দ্রীয় সংগঠক জাকারিয়াসহ অন্যন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জুলাই আন্দোলনে আমরা যারা রাজপথে ছিলাম, আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র করতে দেয়া হবে না।
যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসলিম জারা বলেন, নেত্রকোনা একটি বন্যাকবলিত এলাকা। প্রায় প্রতি বছরই এখানকার মানুষ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির স্বীকার হয়। বিগত দিনে রাষ্ট্রের যেটুকু দায়িত্ব ছিল বন্যার্তদের সহযোগীতা করার জন্য, তা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে।










