বগুড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১ হাজার ৬০১টি। এর মধ্যে ৭৪৭ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। প্রধান শিক্ষক ছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা করতে গিয়ে সহকারী শিক্ষকদের নিতে হচ্ছে বাড়তি চাপ। নিয়মিত কাজের বাইরে পালন করতে হচ্ছে অতিরিক্ত দায়িত্ব। এ কারণে পাঠদানসহ দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে, যার প্রভাব পড়ছে সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করেন অভিভাবকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে সব শিশুর জন্য একীভূত ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বগুড়ার অনেক স্কুলে অবসরজনিত ও অন্যান্য কারণে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে। শূন্যপদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করছেন। কোথাও কোথাও আবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন কারণে পদগুলো শূন্য হলেও পরে আর পূরণ হয়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৯৮টি। এর মধ্যে ৩৯টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। প্রায় ১৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষকরা। কাহালুতে ১১৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৪টিতে শিক্ষকের পদ শূন্য। গাবতলীর ১৬৪টির মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দুপচাঁচিয়ায় ৮৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। নন্দীগ্রামে ১০৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। দুটিতে চলতি দায়িত্ব এবং ৫৪টি বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান দিয়ে। সদর উপজেলার ১২২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে ১২টি উপজেলায় ৭৫৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আটজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
বগুড়ার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা বলছেন, সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত করে প্রশাসনিক কাজ চালানো হচ্ছে। পাঠদান, দাপ্তরিক কাজ থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের ছোট-বড় সব কাজ এখন সামলাচ্ছেন সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরা। ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি অফিশিয়াল কাজ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সময় কমে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান শিক্ষক না থাকায় দায়িত্ব নিতে হচ্ছে, কিন্তু সেটি নিয়মিত কাজের বাইরের দায়িত্ব।
এ ব্যাপারে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সারওয়ার জাহান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উপজেলায় ১০৬টি বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এরই মধ্যে ওইসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’
শিক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবসর, মৃত্যু, পদোন্নতি ও সরাসরি প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগ না থাকায় পদগুলো শূন্য হয়ে পড়েছে। কোথাও জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব পালন করছেন, কোথাও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজ করতে গিয়ে শ্রেণীকক্ষে নিয়মিত পাঠদান করতে পারছেন না। প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা প্রধান শিক্ষক পদে নিজেদের পদোন্নতি চেয়ে আদালতে মামলা করে রেখেছেন। এ কারণে অধিদপ্তর থেকেও প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুটা স্থিতি হয়ে আছে।
পদোন্নতিসংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যপদে ৩৫ শতাংশ নিয়োগের বিধান রয়েছে। বাকি ৬৫ শতাংশ শূন্যপদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলায় ৭৫৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ছিল। কয়েকদিন আগে আটজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। বর্তমানে ৭৪৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কিছু বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষক এবং কিছু চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে।’










