কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়াতে ২০টি দেশের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশী কূটনীতিক ও ব্যবসায়ীরা এসব দেশে ভিসা ছাড়াই যেতে পারছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ওমানের সঙ্গে এ চুক্তি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওমানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই চুক্তি সম্পাদনে একটি যোগসূত্র তৈরি হবে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ বলে মনে করছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ওমানের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তির খসড়া প্রস্তুতি নিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জানানো হয়, ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ ও সম্পর্ককে অধিকতর ফলপ্রসূ করতে ভিসা পদ্ধতি সহজ করতে হবে। এরই অংশ হিসেবে কূটনৈতিক, অফিশিয়াল, স্পেশাল ও সার্ভিস পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি প্রয়োজন। সভায় আরো জানানো হয়, ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি অনানুষ্ঠানিক চিঠি গত ১৩ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই চিঠি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে কূটনৈতিক, অফিশিয়াল ও সার্ভিস পাসপোর্টধারীদের মধ্যে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি করতে আগ্রহী তারা।
জানা গেছে, সর্বপ্রথম ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও ওমান সরকারের মধ্যে ভিসা অব্যাহতি চুক্তির জন্য একটি খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ওই খসড়ার ওপর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ওই খসড়ার ওপর ওমান সরকারের মতামত গ্রহণের পাশাপাশি আরো কয়েক দফা দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শেষে এ-সংক্রান্ত খসড়াটি গত অক্টোবরে চূড়ান্ত করা হয়।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখার (স্পেশাল ব্রাঞ্চ-এসবি) পক্ষ থেকে বলা হয়, ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়েও যোগাযোগ বাড়ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দেশটির সঙ্গে এ চুক্তি হলে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। এছাড়া ওমানের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি হলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও এ চুক্তি সম্পাদনে একটি যোগসূত্র তৈরি হবে।
জানতে চাইলে সুরক্ষা সেবাবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, বেশ কয়েকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে ওমানের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য এ-সংক্রান্ত চুক্তির একটি খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে এলেই খসড়াটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।
এ চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের পাসপোর্ট শক্তিশালী হবে বলেও উল্লেখ করেন সরকারের এ অতিরিক্ত সচিব। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের কূটনীতিকসহ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশে ভিসা ছাড়াই যেতে পারে। বাংলাদেশও সে পথেই হাঁটছে। এজন্য এরই মধ্যে ই-পাসপোর্ট চালু করা হয়েছে। ২০ দেশের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি করা হয়েছে। এ ধরনের চুক্তি যত বাড়বে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ততই শক্তিশালী হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২০টি দেশের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি করেছে। এর মধ্যে সব পাসপোর্টধারীর জন্য ভিসা অব্যাহতির দেশ হচ্ছে মালদ্বীপ। অফিশিয়াল, ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতিপ্রাপ্ত দেশের সংখ্যা ১৭। এগুলো হচ্ছে সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, চিলি, লাওস, বেলারুশ, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কুয়েত, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা, কোরিয়া, তুরস্ক, ভারত ও চীন। এদিকে কোরিয়াকে বাংলাদেশ সব পাসপোর্টে এবং সি-ম্যানদের ভিসা অব্যাহতি দিলেও কোরিয়া বাংলাদেশকে অফিশিয়াল, ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্টধারীদেরও ভিসা অব্যাহতি দিয়েছে।
এদিকে শুধু ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্টধারীদের জন্য জাপান ও থাইল্যান্ড ভিসা অব্যাহতি দিয়েছে। এছাড়া ভিসা অব্যাহতি চুক্তি ছাড়াই ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদে ভ্রমণের জন্য ভিসা অব্যাহতি সুবিধা দিয়ে আসছে।










