কোল্ড ইনজুরি থেকে বোরো বীজতলা রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার কৃষক। শীত ও কুয়াশায় যেন বীজতলা নষ্ট না হয় সেজন্য এ এলাকার অনেক কৃষকই পলিথিন শেডে বীজতলা তৈরি করছেন। ফলে আধুনিক পদ্ধতিতে এ বীজতলা তৈরি কৌশল ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন চারা পচন থেকে রক্ষা পাচ্ছে, তেমনি দ্রুত সময়ে চারা রোপণের উপযোগী হচ্ছে।
বিএডিসির আঞ্চলিক বীজ বিপণন কার্যালয়ের উপপরিচালক মহিবুর রহমান জানান, ২০১২ সালে এসটিএল-৮ জাতের একটি উচ্চফলনশীল জাতের ধানবীজ চীন থেকে আমদানি করা হয়। সেই বীজ দিয়ে বিএডিসির বীজ উৎপাদন খামারের মাধ্যমে ভিত্তিবীজ উৎপাদনের জন্য বীজতলা তৈরি করা হয়। সাধারণত শীত মৌসুমে উৎপাদন করা হয় বোরো ধানের বীজতলা। এ বীজ অত্যন্ত শীতকাতর হওয়ায় বিকাল থেকে সারা রাত ঢেকে রাখতে হয়। যাতে কুয়াশা ও তীব্র শীত থেকে রক্ষা পায়, সেজন্য চায়না প্রযুক্তির মাধ্যমে পলিথিনের শেড করে এ বীজতলা তৈরি করা হয়। সকালে রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পলিথিনের শেড খুলে রোদের আলো দিতে হয়। ফলে বীজতলা কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। এর আগে রবি মৌসুমে বোরো বীজতলা তৈরি করা হলে তা শীত ও কুয়াশায় বেশির ভাগই নষ্ট হতো। চারাগুলো লাল বর্ণ ধারণ করে মারা যেত। ফলে কৃষকদের মৌসুমের শুরুতেই চারা সংকটে পড়তে হতো।
এ সংকট থেকে পরিত্রাণের জন্য কৃষি বিভাগ শুষ্ক বীজতলা তৈরির পরিকল্পনা করে। কিন্তু তাতেও সফলতা আসেনি। কৃষি বিভাগ বহু চেষ্টা করেও কৃষকের মাধ্যমে শুষ্ক বীজতলা তৈরির সফলতা ধরে রাখতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে বীজতলা কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষা করার জন্য বিএডিসির পলিথিন শেড পদ্ধতি গ্রহণ করে কৃষি বিভাগ। এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরিতে সুফল পাওয়া যায়। ফলে চাটমোহরে গত বছর থেকে এ বীজতলা তৈরি করা শুরু হয়। কিন্তু এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকের জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছে। তরে যারা বাণিজ্যিকভাবে এ বীজতলা তৈরি করতে চান তাদের জন্য পদ্ধতিটি লাভজনক হতে পারে। এ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করায় চারার দাম বেশি পড়বে।
বিএডিসির পদ্ধতি দেখে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ করছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, গত বছর বোরো মৌসুমে চাটমোহরের মথুরাপুর গ্রামের ৭৫ জন কৃষকের ১৫০ বিঘা জমিতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ বোরো ধান উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হয়। সেখানে পলিথিন শেডে আবৃত করে বীজতলা করা হয়। এতে করে ভালো মানের চারা উৎপাদন হওয়ায় কৃষক এ বছরও পদ্ধতিটি ধরে রেখেছেন।
কৃষক ইউসুফ আলী বলেন, পলিথিন শেডে ঢেকে বীজতলা করায় চারা রোগ ও পচন থেকে রক্ষা পাচ্ছে। চারার বৃদ্ধিও দ্রুত হচ্ছে। এতে করে চারা কম নষ্ট হবে। এ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন বেশ ব্যয়বহুল। সাধারণ কৃষককে এ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন সম্ভব নয়।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্ততরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, কৃষক আধুনিক এ পদ্ধতির সুফল পেয়েছেন বলেই পদ্ধতিটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরিতে কিছুটা ব্যয় বেশি হলেও ধানের চারা সতেজ থাকে, রোগবালাই কম হয় ও দ্রুত চারা বড় হওয়ায় কৃষক সময়মতো চারা রোপণ করতে পারে। পর্যায়ক্রমে জেলার নয়টি উপজেলায় এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করা হবে। যাতে করে শীত ও কুয়াশায় কোল্ড ইনজুরি থেকে বীজতলা রক্ষা করা সম্ভব হবে। সময়মতো চারা রোপণে উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।










