চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুন-ফেব্রুয়ারি) বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি কিছুটা বাড়লেও কমেছে অর্থছাড়। এ সময়ে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা থেকে ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে অর্থছাড় হয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার। সোমবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ কোটি ডলার বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতি এসেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে, যার পরিমাণ ৪১ দশমিক ৬২ কোটি ডলার।

তবে এ সময়ে জাপান, ভারত, চীন ও রাশিয়া—এ প্রধান উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো কোনো নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি। একইভাবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকও (এআইআইবি) কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে অন্যান্য দেশ ও সংস্থা মিলিয়ে প্রতিশ্রুতি এসেছে ৭৪ দশমিক ৫১ কোটি ডলার।

উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো ঋণের প্রতিশ্রুতি না দিলেও অর্থছাড় করেছে। উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা গেল আটমাসে অর্থছাড় হয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অর্থছাড় হয়েছে ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরে রাশিয়া সর্বোচ্চ ৭৫ দশমিক ৫১ কোটি ডলার অর্থছাড় করেছে। এছাড়া আইডিবি ৬৩ দশমিক ৬, এডিবি ৫৬ দশমিক ৬১, এআইআইবি ৪ দশমিক ১৫, জাপান ১৮ দশমিক ৯৩, ভারত ১৫ দশমিক ২৮, চীন ২৫ দশমিক ৭৭ এবং অন্যান্য ৪৫ দশমিক ৪২ কোটি ডলার অর্থছাড় করেছে।

বিদেশী ঋণ গ্রহণ ও অনুদানের বিষয়ে গেল আট মাসে সরকার ৪৮টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এসব চুক্তির মধ্যে ১৭টি ঋণের এবং ৩১টি অনুদানের চুক্তি। সবচেয়ে বেশি ১৬টি অনুদানের চুক্তি করেছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে চুক্তি হয়নি।