বিভিন্ন সময়ে রাবার বাগান করতে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনকে (বিএফআইডিসি) ৪৪ হাজার ১৬০ একর বনভূমি ইজারা দেয় বন অধিদপ্তর। কিন্তু ইজারা দেয়া সব জমির দখলও নিশ্চিত করে রাখতে পারেনি বিএফআইডিসি। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দেয়া এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। যদিও প্রতিবেদনে বিএফআইডিসি দাবি করেছে ইজারা দেয়ার আগে থেকেই ওইসব জমি বেদখলে ছিল।

১৯৬১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিএফআইডিসিকে রাবার বাগান তৈরি করার জন্য ৪৪ হাজার ১৬০ দশমিক ৫৩ একর বনভূমি ইজারা দেয় বন অধিদপ্তর। এসব বনভূমি সরেজমিনে বন অধিদপ্তর ও বিএফআইডিসির যৌথ স্বাক্ষরে বুঝিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বিএফআইডিসি চেয়ারম্যান গত ১৮ জানুয়ারি এক চিঠিতে বন অধিদপ্তরকে জানান, ইজারা দেয়া এসব বনভূমির মধ্যে বর্তমানে মোট ৭ হাজার ২৬১ দশমিক ৪১ একর জবরদখলকৃত। এর মধ্যে আবার ৬ হাজার ২২ দশমিক ৮৯ একর বিএফআইডিসিকে হস্তান্তরের আগেই জবরদখল হয়েছে।

সেই চিঠি পাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্টরা। মাঠ পর্যায়ে বন অধিদপ্তর এবং বিএফআইডিসির যৌথ সভার মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক তথ্য সংসদীয় কমিটিতে জানানো হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন বিভাগের কাছ থেকে দখল নেয়ার আগেই বেদখলকৃত জমির ওপর একটি প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের দাঁতমারা রাবার বাগানের ৪ হাজার ৬৯১ দশমিক ৯০ একর জমি বন বিভাগ থেকে বরাদ্দ দেয়া হয় বিএফআইডিসিকে। তবে বন বিভাগ জমি হস্তান্তরের আগেই ইজারা দেয়া জমির ৪০৮ একর বেদখলে ছিল। চট্টগ্রামের আরেকটি তারাখোঁ রাবার বাগানের ইজারা দেয়া ৩ হাজার ১৬৭ একর জমির ৬৩৪ দশমিক ৯২ একর বেদখলে ছিল। হলদিয়া রাবার বাগানের ২ হাজার ৮৫৭ দশমিক ৮৫ একর জমির ৫৭৫ একর বেদখলে ছিল। ডাবুয়া রাবার বাগানের ২ হাজার ২১৬ দশমিক ৩৯ একর জমির ২০০ দশমিক ২৭ একর বেদখলে ছিল। রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগানের ১ হাজার ৩৫৬ দশমিক ৬২ একর জমির ৪২ দশমিক ৯২ একর বেদখলে ছিল। রাউজান-রাঙ্গুনিয়া রাবার বাগানের ১ হাজার ৫৭ একর জমির ৩৮ দশমিক ৩১ একর বেদখলে ছিল।

তবে এসব জবরদখলকারীর নামের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মধুপুরের পীরগাছা রাবার বাগানের ৮ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৩৯ একর জমির ৩ হাজার ৪৫৯ দশমিক ৩৯ একর বেদখলে ছিল। সেই জমি উদ্ধারে মামলা চলমান রয়েছে। মৌলভীবাজারে ভাটেরা রাবার বাগানের ২ হাজর ৮৬৭ দশমিক ৮০ একর জমির বেদখলে থাকা ৩২৫ একর উদ্ধারে মামলা চলমান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে ৬ হাজার ২২ একর জমি বেদখলে রাখার তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। 

সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও বিএফআইডিসির বেদখলকৃত জমির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকে বিএফআইডিসির চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিএফআইডিসি মূলত দুটি সেক্টরে কাজ করে। ১৮টি সরকারি রাবার বাগান এবং আটটি শিল্প ইউনিট, যেখানে আসবাবপত্র তৈরি হয়। শিল্প ইউনিটগুলোর যে জমি সেগুলো বিএফআইডিসির নিজস্ব জমি। রাবার বাগানগুলোর জমি বন বিভাগ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নিয়ে রাবার চাষ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বন অধিদপ্তর কর্তৃক বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনকে রাবার চাষের জন্য ইজারা দেয়া ৪৪ হাজার ১৬০ দশমিক ৫৩ একর ভূমির একটি হিসাব প্রদান করা হয়। বৈঠকের সভাপতি শিল্প ইউনিটের মোট জমির পরিমাণ এবং বেদখলকৃত জমির হিসাব জানতে চান। প্রতিবেদনে বিক্ষিপ্তভাবে জমির পরিমাণ থাকলেও বিএফআইডিসির চেয়ারম্যান একত্রিতভাবে তার হিসাব দিতে না পারায় সভাপতি সব তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য নির্দেশনা দেন। বেদখলকৃত জমি উদ্ধারে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এ সম্পর্কিত তথ্যও উপস্থাপনের নির্দেশনা দেন তিনি।