কারারক্ষী রোমান ভূঁইয়া। বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে। বন্দিদের মাদক ও সেলফোন সরবরাহের সময় তিনি ধরা পড়েন কারা কর্তৃপক্ষের হাতে। এমন অনেক কারারক্ষীই জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়মে। বাড়ি ও কর্মস্থল একই বিভাগে হওয়ায় স্থানীয়দের সঙ্গে মিলে কারারক্ষীদের নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার তথ্য উঠে এসেছে কারা অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে। এতে একদিকে কারারক্ষীদের অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে কারাগারগুলোয় তৈরি হচ্ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে বদলি প্রথায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে কারা অধিদপ্তর।

কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী থেকে প্রধান কারারক্ষী পর্যন্ত পদগুলোয় দায়িত্বরতদের বলা হয় গার্ডিং স্টাফ। তারা মূলত কারা অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এজন্য বন্দিদের খুব কাছাকাছি থেকে কাজ করার সুযোগও তৈরি হয়। বন্দিরাও বিষয়টি জানেন। তাই টাকার বিনিময়ে এসব কারারক্ষীদের মাধ্যমে কারা অভ্যন্তরেই তারা পান সেলফোন ব্যবহারসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। এমনকি কারারক্ষীদের হাত দিয়ে মাদকও পৌঁছে যায় বন্দিদের হাতে। অনেক কারারক্ষী জড়িয়ে পড়েছেন কারা অভ্যন্তরের ক্যান্টিন বাণিজ্যে। নানা পদক্ষেপ গ্রহণের পরেও এ অনিয়ম থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি দেশের কারাগারগুলো।

কারা কর্মকর্তারা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে সব অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলি প্রথা সারা দেশে উন্মুক্ত। এতে তাদের মধ্যে কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে কমে আসে আঞ্চলিকতা। পাশাপাশি দেশের সব জেলা ঘুরে দেখার সুযোগও রয়েছে। কিন্তু কারা অধিদপ্তরে এ সুযোগ নেই। এখানে নিজ বিভাগে পদায়ন করা হয়। বদলি করা হলেও তা ওই বিভাগের মধ্যেই। এতে দীর্ঘদিন তারা নিজ বিভাগেই কর্মরত থাকছেন। কারাগারগুলোয়ও একই বিভাগের অপরাধীরা থাকেন। এতে তাদের মধ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন কারারক্ষীরা।

কারা অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, কারা বিভাগের কিছু পদের বদলি প্রথা নিজ বিভাগের মধ্যে সীমিত হওয়ায় একই কর্মস্থলের আশপাশে দীর্ঘদিন চাকরি করার সুবাদে তারা স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে মিশে নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে কারা বিভাগে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী থেকে প্রধান কারারক্ষী পর্যন্ত গার্ডিং স্টাফদের বদলি প্রথা সারা দেশে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। এরই মধ্যে এ বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য একটি কমিটিও গঠন করেছে কারা অধিদপ্তর।

গত ৭ মার্চ অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেনকে সভাপতি করে এ কমিটি গঠন করে কারা অধিদপ্তর। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, খুলনা বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক ছগির মিয়া ও পাবনা জেলা কারাগারের সুপার শাহ আলম খান। এ কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মো. মইন উদ্দিন ভূঁইয়া। কমিটিকে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে কারা মহাপরিদর্শকের কাছে মতামত তুলে ধরতে বলা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেন বৃহস্পতিবার বণিক বার্তাকে বলেন, কমিটির সদস্যরা এরই মধ্যে তাদের কাজ সম্পন্ন করেছেন। এ-সংক্রান্ত একটি বৈঠক চলছে। কারাগারের গার্ডিং স্টাফদের বদলি প্রথা সারা দেশব্যাপী উন্মুক্ত করা গেলে ভালো কিছু হবে বলে আশা করি।