চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের লুৎফুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে টেবিল-বেঞ্চ আছে মাত্র সাত জোড়া। পর্যাপ্ত বেঞ্চের অভাবে মেঝেতে বসেই ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। একই সঙ্গে শিক্ষক সংকট ও বিদ্যালয়ে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। পাঁচজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র তিনজন। একজন প্রধান শিক্ষক এবং বাকি দুজন সহকারী শিক্ষক।
চাঁদপুর জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক সিদ্দিকী জানান, আহমেদাবাদ লুৎফুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন হয়েছে। তবে বেঞ্চ নেই। সরকারি বরাদ্দ পেলে দ্রুত বিদ্যালয়ে বেঞ্চ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।
জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ২০৫ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ২০২২ সালের শুরুতে চার কক্ষবিশিষ্ট বিদ্যালয়টির একতলা ভবন নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভবন বুঝিয়ে দিলেও টেবিল ও বেঞ্চ দেয়নি।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হুমায়রা হিমু জানায়, গত তিন বছর ধরে বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত বেঞ্চ নেই। এ কারণে তাদের পড়ালেখা করতে সমস্যা হয়। গত বছর শীতের সময় তাদের ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হয়েছে। সামনে শীত আসছে। তার আগেই টেবিল-বেঞ্চ সংকটের সমাধান চাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহমুদ হাসান মোস্তফা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০১৮ সালে আমি এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি। তখন শিক্ষক চারজন থাকলেও এখন আমিসহ আছেন তিনজন। চার কক্ষবিশিষ্ট ভবন ২০২২ সালে শুরুতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কোনো টেবিল-বেঞ্চ দেয়নি। বেঞ্চ না থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করতে কষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েও বেঞ্চ পাচ্ছি না।’










