বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে চালু হওয়া এ সেবায় শুধু নারী যাত্রী পরিবহন করা হবে। বাসগুলোর চালক ও কন্ডাক্টরও নারী।

গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সেবার উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘শুধু বাসে ওঠার পর নয়, বাসের জন্য অপেক্ষা এবং বাস থেকে নামার সময়ও নারীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বাসে ওঠা-নামার সময় হয়রানি বা অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হলে নারীদের গণপরিবহনে আগ্রহ কমে যায়।’

প্রাথমিক পর্যায়ে এ বিশেষ বাস সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর ১০৬টি, চট্টগ্রামের ১২টি এবং বগুড়ার ১৬টি—সর্বমোট ১৩৪টি স্টপেজে নারী যাত্রীদের পরিবহন সেবা দেয়া হবে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি, চট্টগ্রামে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি বাস চলবে। ঢাকায় ১০টি রুটে পরিচালিত ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল বাস। চট্টগ্রামে একটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকায় পিংক বাস চলবে নতুন বাজার-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও, মিরপুর-১০-মতিঝিল, মিরপুর-মতিঝিল, মিরপুর-১২-মতিঝিল, নারায়ণগঞ্জ-মতিঝিল, মোহাম্মদপুর-মতিঝিল, আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল এবং গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটে। চট্টগ্রামে কালুরঘাট-পতেঙ্গা ও বগুড়ায় শেরপুর-মাটিডালি ও বনানী-মোকামতলা রুটে চলবে এসব বাস। বিআরটিসি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা ও রুট আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘পরিবহন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করা হচ্ছে। ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমাতে নারী যাত্রীদের জন্য ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ৫০টি এবং পর্যায়ক্রমে ১০০টি ইভি বাস চালুর লক্ষ্য রয়েছে।’

মহিলা বাস সার্ভিসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা ডিপো, বাস ও কাউন্টারের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের পাশাপাশি ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করেছে বিআরটিসি। সম্প্রতি বিআরটিসি ও ‘সহজ’ ডটকমের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় নির্ধারিত মহিলা বাস সার্ভিসে ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাসে ওঠার আগে টিকিট সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে এবং যাত্রীদের অপেক্ষার সময় ও কাউন্টার নির্ভরতা কমবে। এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটি বাসে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা এবং একটি বাসে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু করা হয়েছে। প্রতিটি বাসে ভেহিকল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) সংযোজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রযুক্তি সব বাসে সম্প্রসারণ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন পারভীন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান, বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, মহিলা বাস সার্ভিসের যাত্রী ও সেবাগ্রহীতা এবং পরিবহন খাতের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিসে যুক্ত হলো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট। পরীক্ষামূলকভাবে একটি বাসে স্টারলিংকের হাই পারফরম্যান্স ডিভাইস স্থাপন করে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)। গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ উদ্বোধনের সময় একটি বাসে বিএসসিএলের স্থাপিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগ প্রদর্শন করা হয়।

চলন্ত অবস্থায় বাসে উচ্চগতির ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের সম্ভাবনা যাচাই এবং দেশের গণপরিবহনে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গণপরিবহনে যাত্রীদের জন্য উন্নত ডিজিটাল সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিভিন্ন চলমান যানবাহনে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। দেশের গণপরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে বিএসসিএল স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট স্থাপনের মাধ্যমে সরকারের প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।