কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার জনজীবন। সামর্থ্যবানরা শীত নিবারণ করতে পারলেও ভোগান্তি পোহাচ্ছে দরিদ্র মানুষ। শীত নিবারণে গরম কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই তাদের। যদিও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ৪১ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তবে সেটা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।
সাতক্ষীরা শহরতলীর পারকুখরালী এলাকার প্রাণসায়ের খালপাড়ে পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করেন গৃহবধূ মলুদা বেগম। দেবহাটা উপজেলার গবরাখালীর গ্রামে ছিল তার বাড়ি। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রাণসায়ের খালপাড়ে টং ঘরে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
একই এলাকার জবেদা বেগম জানান, আইলাদুগর্ত এলাকা আবাদচণ্ডীপুর গ্রাম থেকে সব হারিয়ে জীবন যাপন করছেন প্রাণসায়ের খালপাড়ে। বৃদ্ধ বয়সে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেই চলে তার সংসার। শীতবস্ত্র কেনার মতো সামর্থ্য নেই। আশপাশে ধনী মানুষের বসবাস থাকলেও কেউ ফিরে দেখে না।’
পার্শ্ববর্তী বয়ারডাঙ্গা এলাকার কমল দাশি (৮০) বলেন, ‘শীতের কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না। তোমরা কেউ আমাকে একটা কম্বল বা শীতের কাপড় দিয়ে যাও বাবারা।’
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দুই ধাপে ৪১ হাজার কম্বল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের উচ্চমান সহকারী বাবলু হোসেন। সাতটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে সেগুলো পাঠানো হয়েছে বিতরণ করার জন্য।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সন্তোষ কুমার নাথ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলায় প্রায় ৪৫০টির মতো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিও রয়েছে। এসব এনজিওর পরিচালকদের সাতক্ষীরার দরিদ্র মানুষের শীতবস্ত্র সহায়তায় এগিয়ে আসার তাগিদ দেয়া হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরে শীতবস্ত্র বিতরণে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায় না।’










