মাগুরার শালিখায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরে পরবর্তী হামলায় নৌকা প্রতীকের সমর্থক শরীফুল ইসলাম মোল্যা (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শরীফুল মোল্যার ছেলেসহ চারজন। গতকাল সকালে উপজেলার শাবলাট বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত শরীফুল ইসলাম শাবলাট গ্রামের মৃত ইব্রাহিম মোল্যার ছেলে। আহতরা হলেন
শরীফুল মোল্যার ছেলে রাজীবুল হোসেন রাজীব (৩০),
চান আলী মোল্যার ছেলে বদরুদ্দিন মোল্যা (৪৫), সাহাদৎ
মোল্যার ছেলে আনিছুর রহমান (৪৫) ও মৃত বিশারত মোল্যার ছেলে মহব্বত আলী মোল্যা (৩৫)।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারক বিশ্বাস ও আহত রাজীব জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শরীফুল মোল্ল্যাসহ কয়েকজন শাবলাট বাজারে বসেছিলেন। এ সময় একই গ্রামের আয়ুব বিডিআরের নেতৃত্বে ২০/৩০ জনের একদল লোক এসে অতর্কিত তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা দিয়ে তাদের মারপিট ও কুপিয়ে আহত করে। এতে
ওই পাঁচজন আহত হয়। আহতদের বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। এ সময় জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহীনুর রহমান সোহাগ শরীফুল ইসলাম মোল্যাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ছেলে রাজীবসহ চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আনিছুর রহমান, মহব্বত আলী ও বদরুদ্দিনের
অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান চিকিৎসক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও শাবলাট গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সিরাজুদ্দিন মণ্ডল ও শামছুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। গত ২৮ নভেম্বর তালখড়ি ইউনিয়নে নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে সিরাজুদ্দিন মণ্ডল চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে একই দলের বিদ্রোহী শামছুর রহমান চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অবতীর্ণ হন। এ নির্বাচনের মধ্যে তাদের বিরোধ আরো তীব্র হয়। এরপর চশমা প্রতীক সমর্থক আয়ুব বিডিআর নৌকা প্রতীক সমর্থকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এ বিরোধের জের ধরে সিরাজুদ্দিনের সমর্থকরা গতকাল সকালে শাবলাট বাজারে চায়ের দোকানে বসে থাকাকালে চশমা প্রতীক সমর্থকরা হামলা চালালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত আয়ুব বিডিআর ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী পরাজিত চশমা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।










