পাহাড় কাটা কিংবা পাহাড় রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে পরিবেশ আইনে পর্যাপ্ত আইনি পদক্ষেপ না থাকায় বিপাকে আছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পাহাড় কাটলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্লেখ করা থাকলেও কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, কত বছরের সাজা দেয়া হবে কিংবা পাহাড় রক্ষণাবেক্ষণে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। যার কারণে পাহাড় ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংকটে আছে পরিবেশ রক্ষাকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।

পরিবেশসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবেশসংক্রান্ত বিষয়ে সব দিকনির্দেশনা এবং করণীয় উল্লেখ আছে পরিবেশ আইনে। কিন্তু চট্টগ্রাম কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকাটি পাহাড়ি অধ্যুষিত হওয়ার কারণে আলাদা করে বিস্তারিত কিছু আইনে উল্লেখ করা হয়নি। যার কারণে পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা অথবা জরিমানা করেই তাদের দায়িত্ব সারছেন। অন্যদিকে এ পাহাড়সংক্রান্ত আইন যুগোপযোগী না হওয়ায়  দুর্বৃত্তরা সেই সুযোগ নিয়ে বারবার পাহাড় কাটছে। যার কারণে পাহাড় নিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন সংশোধন করা জরুরি বলে মনে করেন তারা।

আইনে পাহাড় রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ধারা উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি কী ধরনের সাজা দেয়া যাবে সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই এ আইনে। সুস্পষ্ট আইন না থাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পাহাড় কাটা এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সঠিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না।

বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের তথ্যমতে, গত দুই যুগে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভূমিদস্যুরা গ্রামে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং শহরে ৬০ শতাংশ পাহাড় কেটে ধ্বংস করেছে। নগরীর বেশির ভাগ পাহাড় কাটা হয়েছে পাহাড়তলী, খুলশী, বায়েজিদ, লালখান বাজার, মতিঝরনা, ষোলশহর ও ফয়’স লেক এলাকা থেকে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৪০ বছর আগে পাহাড় ছিল ২০০টি, যার ৬০ শতাংশই আজ বিলুপ্ত।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের উপপরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ২০১০ অনুযায়ী পাহাড় কাটলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার বিধান আছে। কিন্তু পাহাড় রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে পরিবেশ আইনে সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

পরিবেশবিদ ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, পরিবেশ আইনে পাহাড় কাটা সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা তেমন না থাকার সুযোগ নিচ্ছেন অভিযুক্তরা। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অনেকেই এ পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত আছেন।