সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পরিকল্পিতভাবে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় বসতঘরে আগুন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করাই ছিল মূল লক্ষ্য। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। গ্রেফতাররা হলেন মনির হোসেন, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদ কবির হোসেন, কার্তিক দে, বিপ্লব বড়ুয়া, মোহাম্মদ লোকমান ও মো. পারভেজ।

ডিআইজি বলেন, আগুনের এ ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপপ্রচার চালিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা তদন্তে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছি।

তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারদের কাছ থেকে চারটি উসকানিমূলক ব্যানার, কেরোসিন তেলের দুটি কন্টিনার ও একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে তেলমাখা একটি লুঙ্গি ও একটি পুরনো কালো শার্ট। এ ছাড়া একটি মোবাইল ফোন ও ঘটনাস্থলে যাতায়াতে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অগ্নিসংযোগ, উসকানি ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। গ্রেফতার এক আসামি এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আটকদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর ভোররাতে কেউটিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাধন বড়ুয়া ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা পাল ও কামিনী মোহন পালের বসতঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর গত ২০ ডিসেম্বর ভোর রাতে রাউজান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ঢেউয়াপাড়া এলাকায় বিমল তালুকদার ও রুবেল দাশ নামে দুই ব্যক্তির বসতঘরে আগুন দেয়া হয়। আর গত ২৩ ডিসেম্বর ভোরে পৌরসভার সুলতানপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বসতঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।