লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের সঙ্গে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের যোগাযোগ সহজ করতে ২০০৮ সালে রহমতখালী খালের ওপর সেতু নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। নির্মাণে ত্রুটি থাকায় ১৫ বছর পর ২০২৩ সালে মাটি বহনকারী ট্রাকসহ সেতুটির মাঝের অংশ ভেঙে যায়। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পরে স্থানীয়রা নিজস্ব অর্থায়নে ভাঙা স্থানে সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল শুরু করে।

স্থানীয়রা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার সাত গ্রামের বাসিন্দারা চলাচল করছে। সাঁকো পারাপার হতে গিয়ে প্রায় সময়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। জরুরি প্রয়োজনে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। নিকটবর্তী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় গনিপুরের ৮০০-৯০০ শিক্ষার্থী সাঁকো পার হয়ে বেগমগঞ্জের বালুচরা ইব্রাহিম মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, হাসানিয়া আলিম মাদ্রাসা, বালুচরা সমাজকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালুচরা কিন্টারগার্ডেন ও ইব্রাহিমীয়া হাফেজি মাদ্রাসায় যেতে হয়। ভয়ে অভিভাবকরা শিশুদের স্কুল পাঠানো বন্ধ করে দিচ্ছেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলেয়াপুর ইউনিয়নের মেম্বার মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘দুই বছর আগে সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে যায়। চন্দ্রগঞ্জ কপিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজসহ দুই পারে পাঁচ-ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বেগ পেতে হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধরনা দিয়েও কোনো সুফল মিলছে না।’

এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকরামুল হক বলেন, ‘একটি প্রকল্পের সঙ্গে রহমতখালী খালের ওপর ভাঙা সেতুটি অন্তর্ভুক্ত করে বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সেতুর কাজ শুরু হতে পারে।’