ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে কৃষিজমির মাটি বিক্রেতা চক্র। রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে কৃষিজমির মাটি বিক্রি করছে চক্রটি। পুকুর খননের নামে অবাধে শত শত বিঘা কৃষিজমি নষ্ট করে শ্রেণী পরিবর্তন করা হচ্ছে। ভারতে তৈরি কৃষিপণ্য বহনকারী মাহেন্দ্রর মাধ্যমে এসব মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটা ও ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণকাজে। সড়ক দিয়ে মাটি বহনকারী মাহেন্দ্র চলাচল করার কারণে গ্রামীণ কাঁচাপাকা সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে অনেক স্থানে। সড়কগুলোয় তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন গর্তের। এভাবে মাটি কেটে কৃষিজমি নষ্ট করা হলে এক সময় জমির অভাবে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে, এমনটাই দাবি কৃষিসংশ্লিষ্ট জনসাধারণের।
জানা যায়, উপজেলার আগলা ইউনিয়নের বেনুখালী এলাকায় কাউসার, কৈলাইল ইউনিয়নে ডয়েস মো. হাবিবের নেতৃত্বে মালিকান্দা, নয়াকান্দা, মোল্লাকান্দা ও দৌলতপুরে এবং সবুজ মাহমুদ, নিশাত পারভেজ আবুল কালাম ও রাকিব জয়কৃষ্ণপুর ইউপির রাজাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছে মাটি কেনাবেচার ব্যবসা। এ বিষয়ে হাবিবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। বেনুখালী এলাকার মাটিখেকো হিসেবে পরিচিত কাউসার বলেন, আমি আগে মাটি বিক্রির ব্যবসা করতাম। এখন পুরনো পুকুর থেকে মাঝেমধ্যে মাটি উত্তোলন করি। উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউপির রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা কৃষক আবু কালাম বলেন, আমাদের এ এলাকায় রাতের আঁধারে একাধিক মাটিখেকো চক্র কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে। এতে আমাদের কৃষিজমি ও মাটির সড়ক নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন।
কৈলাইল মালিকান্দা গ্রামের মো. মাসুম বলেন, আমাদের মালিকান্দা এলাকাসহ কেরাণীগঞ্জের কিছু অংশে প্রতিদিন মাটি কাটা হয় রাতের আঁধারে। কৃষিজমির মাটিকাটা বন্ধ না হলে আগামীতে আবাদি জমির সংকট দেখা দিবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বারুয়াখালী, বক্সনগরের দিঘির পাড় চক এলাকা, কলাকোপা, নয়নশ্রী, বাহ্রা, জয়কৃষ্ণপুর, আগলা এলাকায় একাধিক মাটি বিক্রেতা চক্র ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছেন রাতে। অন্যদিকে বান্দুরা ও বারুয়াখালী এলাকায় তপন ঘোষ ও কবির নামের দুই ব্যক্তি অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন মাটি বিক্রির ব্যবসা। কুঠাবাড়ীর চক থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যার ট্রাক ও মাহেন্দ্র দিয়ে মাটি পাঠাচ্ছেন বিভিন্ন ইটভাটায়। বান্দুরা বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, সন্ধ্যা হলেই দেখা যায় মাটিভর্তি ট্রাক ও মাহেন্দ্র। প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয় না। কারণ বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয় ক্ষমতাবান।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, নবাবগঞ্জে ৪২টি কৃষি ব্লকে মোট আবাদি কৃষিজমি ৩১ হাজার ৭০৬ হেক্টর। কৃষি কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান বলেন, কৃষিজমির মাটি বিক্রি করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এভাবে জমি নষ্ট করা হলে এক সময় খাদ্য উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, মাটি বিক্রেতা চক্রের অনেক সদস্যকে এরই মধ্যে আমরা অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছি। আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি তাদের গ্রেফতার করতে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু বলেন, কৃষিজমির মাটি বিক্রি করা অপরাধ। যেকোনো মূল্যে মাটি কাটা বন্ধ করা হবে।










