জন্মের ৩০ মাস পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করা হচ্ছে নীলফামারির
জলঢাকা উপজেলার জোড়া শিশু লাবিবা-লামিসাকে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সোমবার
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করবেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
আজ শনিবার ঢামেক হাসপাতালের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান
চিকিৎসকরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিশু দুটি দুইমাসের বেশি সময় ধরে ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি রয়েছে। এরই মধ্যে তাদের চিকিৎসায় গঠন করা
হয়েছে মেডিকেল বোর্ড। হাসপাতালের নয়টি বিভাগের সমন্বয়ে এ বোর্ড গঠিত হয়েছে।
জলঢাকার স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিলে জন্ম হয় লাবিবা
লামিসার। তাদের বাবা জানিয়েছেন, জন্মের পর তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
নেয়া হয়েছিল। সেখানের চিকিৎসকরা ঢামেক হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু অর্থাভাবে
সেসময় ঢাকায় আসতে পারেননি তিনি। ধারদেনা করে
শেষ পর্যন্ত জন্মের নয়দিন পর তাদের ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করাতে সক্ষম হন।বর্তমানে শিশু
দুটির যাবতীয় চিকিৎসা খরচ বহন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশু দুটির অস্ত্রোপচারের বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক সার্জারি
বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফ-উল হক কাজল বলেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে
শিশুদুটিকে আলাদা করার বিষয়ে তারা আশাবাদী। নয়দিন বয়সে যখন তারা ঢামেকে আসে সেসময়
তাদের পায়ুপথে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেট দিয়ে মলত্যাগের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর
তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরমধ্যে নভেল করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী
চিকিৎসার ধাপটি পিছিয়ে যায়।
এরপর গত অক্টোবর থেকে তারা ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি আছে জানিয়ে এ চিকিৎসক
বলেন, লাবিবা লামিসার পায়ুপথে, প্রস্রাবের
রাস্তায়, জরায়ুতে ও মেরুদণ্ডে সমস্যা আছে। তবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা
করে পূর্ণাঙ্গ মেয়ে শিশুতে রূপান্তরের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।
সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা আরো জানান, এ ধরনের অস্ত্রোপচার ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগেও হয়েছে। তাই এবার কোনো জটিলতা হবে না বলেই প্রত্যাশা
করা হচ্ছে। অস্ত্রোপচারের পর শিশু দুটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবে বলে প্রত্যাশা
মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের।










