চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ১৪৪ ধারা ভেঙে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে গতকাল সহস্রাধিক নেতাকর্মী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

অভিযোগ রয়েছে, আরেক অংশের নেতাকর্মী ফুল দিতে আসার পথে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের লোকজন হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে মো. জাবেদ (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। নিহত জাবেদ চট্টগ্রাম শহরের বায়োজিত থানাধীন আরেফিন গেট এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে।

এর আগে ২৬ মার্চ ঘিরে বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও তার আশপাশের ৫০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। গতকাল বারইয়ারহাট পৌরসভার জামালপুর এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের সঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।’

বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন লিটন বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন থেকে আমাদের জানানো হয় গতকাল বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসার জন্য। সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন ফুল দেবেন। তাই নেতাকর্মীরা সকালে জামালপুর এলাকায় জড়ো হন। কিন্তু পরে জানতে পারি উপজেলা প্রশাসন শহীদ মিনারে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এ সময় নেতাকর্মীরা জামালপুর এলাকায় জড়ো হতে লাগলে নুরুল আমিনের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। এতে জাবেদ নামে একজন নিহত হন।

তবে নুরুল আমিন বলেন, ‘সকালে বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন লিটনের বাড়িতে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী তার লোকজন জড়ো করে। এ সময় আমাদের কয়েকজন কর্মীকে দেখে তারা ধাওয়া দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে ওই যুবক কীভাবে মারা গেছেন সেটা আমি জানি না।’