কুষ্টিয়ার পূবালী ব্যাংক কর্মকর্তা
রাজীব আহমেদের খোঁজে ২২ দিন ধরে পথে পথে ঘুরছেন স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান। গত বছরের
২২ ডিসেম্বর কুমারখালী উপজেলা শহর থেকে নিখোঁজ হন তিনি।
রাজীব আহমেদ কুমারখালী শাখা পূবালী
ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা।
তার স্ত্রী রায়হানা পারভীন জানান, নিখোঁজের
রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। কিন্তু রাজীবের হদিস বের করতে পারেনি
কেউ।
রায়হানা জানান, চাকরির সুবাদে তারা
কুমারখালীতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। রাজীবের পৈত্রিক বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার
দক্ষিণ রেলগেট এলাকায়। তার বাবা মৃত ইয়াসিন আলী। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে রাজীব
সবার ছোট। পূবালী ব্যাংকের কুমারখালী শাখায় তিনি গত বছরের জানুয়ারিতে বদলি হন।
২২ ডিসেম্বর ছিল শুক্রবার। পরিবারের
সব সদস্য বাসায় ছিলেন। এদিন কাউকে কিছু না বলে সকাল ৯টার দিকে বাসার নিচে যান রাজীব।
বেলা গড়িয়ে দুপুর হয়ে এলে রায়হানা স্বামীর মোবাইলে কল দেন। কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়া যায়,
এরপর আর নাম্বারটি খোলা পাওয়া যায়নি।
রাজীবের ভাই রাহাতুল ইসলাম জানান, পরিবারের
পক্ষ থেকে আত্মীয়-স্বজনদের ও বিভিন্ন জায়গায় জানানো হয়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজিও
করা হয়। কিন্তু সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজের রাতে কুমারখালি থানায় একটি জিডি করেন রাহাতুল।
এখন এক অজানা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন
বলেও জানান তিনি। কারণ কেউই বুঝতে পারছেন না কী ঘটেছে রাজীবের ভাগ্যে।
গত বুধবার (১০ জানুয়ারি) পরিবার, আত্মীয়-স্বজন,
সহকর্মী ও এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাজীবের হদিস চেয়ে মানববন্ধন
করেন।
রায়হানা পারভীনের অভিযোগ, রাজীবকে উদ্ধারের
বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের অবহেলা রয়েছে।
এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) আকিবুল ইসলাম বলেন, তাকে উদ্ধারের সব চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পুলিশের গাফিলতির বিষয়ে তিনি জানান,
তখন নির্বাচনের কারণে একটি টিম কাজ করেছিল। এখন কয়েকটি টিম নিয়োগ করা হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক এহতেশাম রেজা জানান,
স্বজনদের দেয়া স্মারকলিপি সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে।










