লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ‘রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কর্মকর্তারা গ্রাহকদের প্রায় ৫০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন দুই শতাধিক গ্রাহক। এ ঘটনায় ৮ জুলাই টাকা ফেরত ও প্রতারককে আটক করে শাস্তির দাবি জানিয়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মারুফ বিন জাকারিয়ার কার্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা অভিযোগ দায়ের করেন। পরে উপায় না পেয়ে রাতেই রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
জানা যায়, ‘রিক’ নামে সংস্থাটি রায়পুর শহরের রায়পুর-চাঁদপুর সড়কের সিএনজি স্ট্যান্ডসংলগ্ন বয়াতিবাড়ীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ চৌধুরীর ভবনের ঠিকানা দিয়ে উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করে। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চর মজিদ গ্রামের আনোয়ার মাঝির ছেলে ভুয়া এনজিও মালিক আব্দুল আজিজ এলাকায় ঋণ দেয়ার কথা বলে বাড়ি ভাড়া নেন। কর্তৃপক্ষ এলাকার পাঁচজনকে মাঠ পর্যায়ের কাজের জন্য নিয়োগ দেয়।
রায়পুর পৌরসভার মধুপুর, কাঞ্চনপুর, দেনায়েতপুর, উপজেলার রাখালিয়া, কেরোয়া, বামনী, চরবংশী, চরআবাবিল, চরপাতাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে দোকান, প্রবাসী ঋণ, বিভিন্ন যন্ত্র ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিনতে ঋণ দেয়ার কথা বলা হয়। এজন্য এলাকায় প্রায় ৩০০ জনকে সদস্য করা হয়। ঋণ গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তিদের ১ লাখ টাকার জন্য ১০ হাজার, ২ লাখ টাকার জন্য ২০ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়। কয়েক দিন আগে দু-তিনজন সদস্যকে ঋণ দেয়া হয়। অবশিষ্ট সদস্যদের ৬ জুলাই ঋণ দেয়ার কথা ছিল। শতাধিক গ্রাহক ওইদিন দুপুরে সংস্থাটির কার্যালয়ে ভিড় করেন। কিন্তু তারা দেখেন কার্যালয়টি তালাবদ্ধ।
পৌরসভার দেনায়েতপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী হাজেরা বেগম শারীরিক পরিশ্রমের কোনো কাজ করতে পারেন না। তার স্বামী অটোরিকশা কেনাবেচা করেন। ওই সংস্থা থেকে ৫ জুলাই তাকে ২ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার কথা ছিল। সংস্থাটিতে সঞ্চয় হিসাবে তিনি ২০ হাজার টাকা জমা দেন।
প্রতারণার শিকার রাখালিয়া গ্রামের জাহাঙ্গির বলেন, ৪ লাখ টাকা ঋণ নিতে ৪০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। ঋণ নিতে এসে দেখি কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন।
একই অভিযোগ করেছেন জুয়েল, ফারুখ, আব্দুল আউয়াল, সোহেল রানা, হাজেরা বেগম, স্বপ্না, মাকছুদা ও আমেনা।
স্থানীয়ভাবে নিয়োগ পাওয়া মাঠকর্মী কহিনুর বেগম বলেন, ‘৬ হাজার টাকা মাসিক বেতনে ১ জানুয়ারি এখানে যোগ দিয়েছি। আজ গ্রাহকদের কয়েক লাখ টাকা ঋণ দেয়ার কথা ছিল। কাউকে কিছু না বলেই প্রায় ৫০ লাখ টাকা নিয়ে আব্দুল আজিজ পালিয়ে গেছেন। লোকজনের ভয়ে এখন আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফ হোসেন বলেন, রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) নামে কোনো সংস্থা সমাজসেবা থেকে অনুমোদন নেয়নি।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শিশির কান্তি বলেন, রিক নামে কোনো সমবায়ের সঙ্গে জড়িত নয় তারা। এটি এনজিও। এটির সমবায় অধিদপ্তরে কাজ নেই। এ করোনার সময়ে গরিব মানুষের টাকাগুলো নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করেও আব্দুল আজিজ ও তার স্ত্রীর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে নিজের ভুয়া এনজিও খোলার আগের চাকরির স্থল আরেকটি এনজিও ‘সাগরিকার’
ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন বলেন, আব্দুল আজিজ খারাপ স্বভাবের মানুষ। তিনি আমাদের এনজিওর লোকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছিলেন। পরে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল জলিল জানান, রিক নামের একটি এনজিওর মালিক প্রতারণা করে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনায় কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আশা করি, দ্রুত প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করা হবে।










