বন্যাকবলিত সিলেটসহ দেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে মন্দা ভাব থাকলেও সাগরকন্যা কুয়াকাটা সৈকতে ঈদের ছুটিতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গিয়েছে। মূলত স্বপ্নের পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন খাতের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এ সেতু চালু হওয়ায় কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা থেকে মাত্র ৫ ঘণ্টায় কুয়াকাটায় পৌঁছতে পেরে উচ্ছ্বসিত পর্যটকরাও। মঙ্গলবার ও গতকাল কুয়াকাটা সৈকত ছিল জমজমাট। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তসহ দিনভর হাজারো পর্যটকে মুখর ছিল সৈকত।

সৈকতের পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, এরই মধ্যে হোটেল-মোটেলগুলোর শতভাগ বুকিং প্রায় শেষ। ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার স্থলে পদ্মা সেতু পার হয়ে এখন ৫ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পৌঁছা যাচ্ছে। ফলে এবার রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটছে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। এখানে রয়েছে দীর্ঘ ২৫ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত। আছে রাখাইনদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত নানা স্থাপত্য নিদর্শন। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ প্রথমবারের মতো ঈদের ছুটি উপভোগ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটক।

পরিবার-পরিজন কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করার পাশাপাশি সাগর সৈকতে ছাতার নিচে বসে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ অবলোকনের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাচ্ছেন না ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের কুয়াকাটা ভ্রমণের সব রেকর্ড এবার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আবাসিক হোটেল-মোটেলের প্রায় শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটক আকর্ষণে হোটেলগুলোতে ৪০-৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেয়া হচ্ছে।

এবারের ঈদের ছুটিতে ফেরিবিহীন কুয়াকাটা ভ্রমণে ব্যাপক পর্যটকের ভিড় হওয়ায় ট্যুরিস্ট পুলিশের টহলও জোরদার করা হয়েছে। রেস্টুরেন্টের কোথাও বাসি পচা খাবার যাতে পরিবেশন করা না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে।

পর্যটকরা জানান, আগে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পৌঁছাতে একাধিক ফেরি পার হতে হতো। এতে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগত। বর্তমানে পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় কুয়াকাটায় পৌঁছা যাচ্ছে। ফলে অনেকে ভোরে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে দুপুরের আগেই সৈকতে আসতে পারছেন। দিনভর সমুদ্র দর্শন শেষে রাতে আবার ফিরে যেতে পারছেন ঢাকায়। এতে তাদের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় পর্যটকরা সহজেই কুয়াকাটায় আসতে পারছেন। ফলে কুয়াকাটার সৈকতের জিরো পয়েন্ট, জাতীয় উদ্যান, লেম্বুর চর, রাখাইন মার্কেটসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে চারদিনে পর্যটকের ব্যাপক সমাগম ছিল।

কুয়াকাটার অভিজাত সমুদ্র বাড়ি রিসোর্টের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, এরই মধ্যে তাদের রুম বেশির ভাগ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। এখনো অনেক পর্যটক রুমের জন্য যোগাযোগ করছেন।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, প্রতি বছরের মতো এবার ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটক সমাগম বেশি। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর ৭০ ভাগ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

এদিকে এবারের ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকের সমাগম বেশি হওয়ায় খুশি পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা। আয় বেড়েছে স্থানীয়ভাবে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালকদেরও। তারা পর্যটকদের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন। এতে খরচ বাড়লেও অল্প সময়ে পর্যটকরা পুরো সৈকত এলাকা ঘুরে দেখতে পারছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, আগত পর্যটকদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সব মিলিয়ে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে কুয়াকাটা ভ্রমণ করতে পারছেন পর্যটকরা।