খুলনা বিভাগের প্রথম পৌরসভা হিসেবে ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সাতক্ষীরা পৌরসভা। প্রতিষ্ঠাকালে ‘গ’ শ্রেণীভুক্ত হলেও ১৯৯৮ সালে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়। তবে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও সে অনুপাতে নাগরিক সেবা মিলছে না বলে দাবি পৌরসভার বাসিন্দাদের।
তারা বলছেন, সাতক্ষীরায় খাল রয়েছে প্রায় ৪২৯টি। এসব খাল দিয়ে পৌরসভা ও উপজেলা শহরের পানি নিষ্কাশন হয়। তবে দখল-দূষণে অধিকাংশ খালের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ কারণে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় পৌরসভার অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর বেশির ভাগই ছোট-বড় গর্ত থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শহরের বাসিন্দাদের।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও রয়েছে সংকট। ৩১ দশমিক ১০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৌরসভায় নয়টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ডের বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ১৫০টি ডাস্টবিন প্রয়োজন হলেও রয়েছে ৫০টি। আবর্জনা পরিবহনের জন্য যে পরিমাণ যানবাহন প্রয়োজন সেটিও পৌরসভার নেই। কমপক্ষে ছয়টি যানবাহন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র দুটি। তাও মাঝে মধ্যে ত্রুটি দেখা দেয়।
প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা গঠনের শর্তানুযায়ী, পৌর এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, শিল্প এলাকা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। এছাড়া সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। সর্বোপরি নির্দিষ্ট জনসংখ্যা ও উন্নত অবকাঠামো থাকতে হয়।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখানে নাগরিকরা পৌরসেবা ঠিকমতো পান না। পর্যাপ্ত ডাস্টাবিন নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নেই। পানি সরবরাহ অপ্রতুল। রাস্তাঘাটে ঠিকমতো চলাচল করা যায় না। অথচ সাতক্ষীরা পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণীর, যার নাগরিক সেবার মান খুবই নগণ্য। তবে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর যেভাবে আবর্জনার স্তূপ তৈরি হচ্ছে তাতে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।’
সরজমিন দেখা গেছে, ডাস্টবিনের অভাবে শহরের অধিকাংশ সড়কের ওপর ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে শহরের পরিবেশ যেমন দূষণ হচ্ছে, তেমনি নগরবাসীর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
অবশ্য পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, নাগরিকদের সচেতনতার অভাবে শহরের পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। ডাস্টবিন থাকার পরও আবর্জনা সেখানে না ফেলে রাস্তায় ওপরে ফেলা হচ্ছে।
গতকাল শহরের ইটাগাছা হাটের মোড়ে সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ সড়কের ওপর, সুলতানপুর বড় বাজারের প্রবেশদ্বারে, প্রেস ক্লাব সড়ক, নারকেলতলা ব্রিজ সড়ক ও সার্কিট হাউজ সড়কের ওপর দেখা গেছে আবর্জনার স্তূপ। বাসাবাড়ি থেকে আনা এসব আবর্জনা পলিথিনে করে রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়েছে।
ইটাগাছা মহল্লার বাসিন্দা নুরুল কবির ও মিরাজ হোসেন জানান, তাদের মহল্লার একপাশে সুলতানপুর বড় বাজার অন্য পাশে ইটাগাছা হাট। এছাড়া অন্যান্য সরকারি দপ্তর রয়েছে। কিন্তু এখানে আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরসভার কোনো ডাস্টবিন নেই। ফলে বাড়ির আবর্জনা রাস্তায় ফেলা ছাড়া উপায় থাকে না। এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়েই রাস্তার পাশে ফেলতে হচ্ছে আজর্বনা।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল বণিক বার্তাকে বলেন, রাস্তার ওপর আবর্জনা ফেলার কারণে শহরের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, আবর্জনা ছড়িয়ে রোগ সৃষ্টি করছে।
সার্বিক বিষয়ে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘শহরের পরিবেশ ভালো রাখতে আগে নাগরিকদের সচেতন হওয়া জরুরি। ডাস্টবিনে ময়লা না ফেলে কীভাবে বাইরে ফেলেন? শহরের ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহের দায়িত্বে আছে সুন্দরবন ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। মাসে নামমাত্র কিছু খরচ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করেন। কিন্তু মাস শেষে তাদের সামান্য খরচটাও দিতে চায় না অনেকে। আবার বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে খরচ নিয়েও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আর দেয় না। সম্প্রতি পৌরসভায় কিছু ডাস্টবিন স্থাপন করতে গেলে বাধা দেয় বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন। সব মিলিয়ে উভয় সংকটে রয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।’










