রাজধানী ঢাকায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর ছাত্র সমাবেশ করবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতো চট্টগ্রাম থেকেও সমাবেশে যাবেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ জন্য রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কাছে ৩৭টি কোচের চাহিদাপত্র দিয়েছে সংগঠনটি। তবে রেলওয়ে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী ৭ থেকে ৮টি কোচ বরাদ্দ দেয়ার কথা জানিয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় ১০ দিন আগে। অর্থাৎ ১১তম দিন আগেই অনলাইন ও কাউন্টারে টিকিট উন্মুক্ত হয়ে যায়। যে কারণে ছাত্রলীগের চাহিদাপত্র অনুযায়ী উন্মুক্ত হয়ে যাওয়া টিকিট দেয়ার সুযোগ নেই। স্পেশাল বরাদ্দপত্রের মাধ্যমে নতুন কোচ সংযোজন করতে হচ্ছে রেলওয়েকে। এক্ষেত্রে রেলওয়ের স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশনের বেশি কোচ সংযোজনের সুযোগ নেই। ফলে ৩৭টি কোচ বরাদ্দের আবেদন হলেও এক চতুর্থাংশের কম বরাদ্দ দেয়ার পরিকল্পনা করছে রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ। 

ছাত্রলীগের বরাদ্দ চাওয়া ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩১ আগস্ট আন্তঃনগর তূর্ণা এক্সপ্রেস, মেইল এক্সপ্রেস ও ১ সেপ্টেম্বরের বিরতিহীন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন। এরই মধ্যে ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ১ সেপ্টেম্বরের সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনে ৭টি কোচের বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দিয়েছে পরিবহন বিভাগে। অপর দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ ৩১ আগস্টের তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনে ৪টি করে মোট ৮টি কোচ বরাদ্দ চেয়েছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মেইলে ৫টি কোচ বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দিলেও অধিকাংশই তূর্ণা ও সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনেই ছাত্রসমাবেশে যোগ দিতে চায়।

তবে যাত্রা সময়ের কয়েক দিন আগে আবেদন করা এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি ট্রেনের বাড়তি কোচ সংযোজনের আবেদন করায় রেলওয়ে চাইলেও বাড়তি টিকিট সরবরাহ দিতে পারছে না।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, চাইলেই বিপুল পরিমাণ বাড়তি কোচ সংযোজন করা যাবে না। রেলওয়ে স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশনের সাথে সমন্বয় করে সর্বোচ্চ পরিমাণ কোচ বরাদ্দ দেয়ার চেষ্টা করছে। একটি ট্রেনে অনুমোদনের বেশি কোচ সংযোজন করলে লোকোমোটিভ কিংবা সম্পূর্ণ রেক-ই  বিকল হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া ট্রেনের পাওয়ারকারের একটি নির্ধারিত ক্যাপাসিটি থাকায় চাইলেও বেশি কোচ সংযোজন করা সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন টিপু বণিক বার্তাকে বলেন, ট্রেন কিংবা বাসের আসন সংগ্রহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি আমরা। ট্রেনকে প্রাধান্য দেয়া হলেও শেষ সময়ে আবেদন করায় আশানুরূপ টিকিট পাওয়া সম্ভব হবে না বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, আগামী ১ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই ছাত্র সমাবেশ করবে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। প্রথমে ৩১ আগস্ট এই সমাবেশের  ঘোষণা দেয়া হলেও কর্মদিবস এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি বিবেচনায় ১ সেপ্টেম্বর সমাবেশের তারিখ পুনঃনির্ধারণ করা হয়।