প্রতি বছর বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বেড়েছে বোরো আবাদ। বিগত পাঁচ বছরে উপজেলায় ৩৪০ হেক্টর জমি নতুন করে বোরো আবাদ যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস। কৃষক বলছেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া ১৪টি পানি স্কিম চালু হলে আবাদ কয়েক গুণ বাড়বে। বোরো আবাদে পানি খরচ বেশি হওয়ায় কৃষক চাষে অনীহা প্রকাশ করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে মিরসরাইয়ের ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। ২০১৯ সালে ৩০০ হেক্টর কমে আবাদ হয় মাত্র ১ হাজার ১৬০ হেক্টর। ২০২০ সালে ৪২০ হেক্টর বেড়ে আবাদ দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৮০ হেক্টরে। উৎপাদন বাড়াতে ২০২১ সালে সরকার শুরু করে বোরো চাষীদের বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ। ওই বছর ১ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। ২০২২ সালে ৮০ হেক্টর বেড়ে আবাদ হয় ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। সরকার ২০২১ সাল থেকে কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ শুরু করে। ওই বছর উপজেলার ২ হাজার বোরো চাষীর মাঝে দুই কেজি হাইব্রিড বীজ, পাঁচ কেজি উফশী বীজ, ১০ কেজি বিএবি ও ১০ কেজি এমও সার বিতরণ করে। ২০২২ সালে ১ হাজার ৭২৫ কৃষকের মাঝে সমহারে হাইব্রিড, উফশী বীজ ও সার বিতরণ করেছে। চলতি বছরও ২ হাজার ১০০ কৃষকের মাঝে সমহারে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করছে। এর সুফল পেয়েছে মিরসরাইয়ের বোরো চাষীরা। গত পাঁচ বছরে মিরসরাইয়ে ৩৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বেড়েছে।

এদিকে সরকার ফসলের আবাদ বাড়াতে তাগিদ দিলেও মিরসরাইয়ে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বোরো চাষের অন্যতম অনুষদ পানির স্কিম। গত ১৬ বছরে ১৮টির মধ্যে ১৪টি পানির স্কিম বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ধান ছাড়াও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে বেগ পেতে হচ্ছে কৃষককে।

উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের দীপক দে বলেন, ‘বোরো আবাদের জন্য পানির খুব প্রয়োজন। সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষকের পানির ব্যবস্থা করলে বোরো আবাদ কয়েক গুণ বাড়বে।’