অতীতকে পেছনে ফেলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে একটি নতুন সূচনা বা ফ্রেশ স্টার্ট জরুরি। দুই দেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য বা ইস্যু রয়েছে, যেগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে। তবে এ বিষয়ে ভারতকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।’

গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ সময় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংলাপ এবং গঠনমূলক আলোচনার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘আমার পূর্ণ আস্থা আছে, দুই দেশ একসঙ্গে বসলে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা যায় না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাধান খুঁজে বের করা, যা ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্য লাভজনক হয়।’ 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে হাইকমিশনার বলেন, ‘বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন বিনয়ী নেতা। তিনি জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত থাকেন।’ ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শুধু একটি অভিন্ন সীমান্তই নয়, আরো অনেক কিছু রয়েছে।’ 

দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক এবং জনগণের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু সীমান্তই ভাগ করি না, আমরা স্বপ্নও ভাগ করি।’

হাইকমিশনার বলেন, ‘দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ও সমস্যা থাকাটা স্বাভাবিক। এ ধরনের মতপার্থক্যকে কূটনীতি বা সম্পর্কের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং খোলামেলা ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করা যেতে পারে।’ 

ত্রিবেদী দুই দেশের জনগণের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষের সাধারণ নাগরিকরা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক দেখতে চান।’ 

নিজের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে হাইকমিশনার বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ‘ভালোবাসা, সম্মান ও স্নেহের’ জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া অব্যাহত সংলাপ, সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশ তাদের অংশীদারত্বকে আরো শক্তিশালী করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্যমান বন্দি বিনিময় ও বন্দি প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত সব চিহ্নিত পলাতক অপরাধীকে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি করার লক্ষ্যে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানান।

এছাড়া শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারত থেকে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে ফেরত প্রদানের অনুরোধ জানান।

জবাবে হাইকমিশনার ভারতের পক্ষ থেকে আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান।