প্রগতিশীল বাম ধারার বুদ্ধিজীবী, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক যতীন সরকার আর নেই। গতকাল বেলা ৩টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও মেয়ে রেখে যান। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) হাসপাতাল থেকে যতীন সরকারের মরদেহ জেলা উদীচী কার্যালয়ে নেয়া হয়। এরপর বিকালে তার মরদেহ নেত্রকোনায় নিজ বাসভবন সাতপাই বানপ্রস্থে নেয়া হয়।
জানা গেছে, বেশ কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন অধ্যাপক যতীন সরকার। পাশাপাশি ভুগছিলেন পলি আর্থ্রাইটিসেও। গত জুনে তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকে ময়মনসিংহে মেয়ের বাসায় ছিলেন। সেখানে আবার অসুস্থ হলে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
১৯৩৬ সালের ১৮ আগস্ট নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন যতীন সরকার। তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় রামপুর ফ্রি বোর্ড প্রাইমারি স্কুলে। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি মেট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। টিউশনি করে টাকা জমিয়ে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে আইএতে ভর্তি হন নেত্রকোনা সরকারি কলেজে।
এ সময় তিনি নেত্রকোনা কলেজের ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হন। আইএ পাসের পর ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে বিএ ক্লাসে ভর্তি হন। ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে বিএ পরীক্ষা দিয়েই জীবিকার প্রয়োজনে শিক্ষকতা শুরু করেন নেত্রকোনার আশুজিয়া হাই স্কুলে। এরপর তিনি শিক্ষকতা করেন বারহাট্টা সিকেপি পাইলট হাই স্কুলে।
১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ১৯৬৩ সালে এমএ পাস করেন। একই বছরে তিনি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর হাই স্কুলে বাংলার শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরের বছর ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি ময়মনসিংহ শহরের নাসিরাবাদ কলেজে বাংলার প্রভাষক পদে নিয়োগ পান।










