নির্বাচনী কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রমাণিত হলে এর পরিণতি হবে কঠোর ও নেতিবাচক।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোয় নিরপেক্ষতা না থাকার কারণেই প্রশ্ন উঠেছে। সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সামান্যতম পক্ষপাতিত্বও গ্রহণ করা হবে না। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কর্মকর্তাকে পক্ষপাতমূলক নির্দেশনা দেয়া হবে না। এরপরও কেউ যদি ব্যক্তিগত পছন্দ বা অপছন্দের বাইরে থাকতে ব্যর্থ হন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার জন্য কঠোর পরিণতি অপেক্ষা করবে।

তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচনের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি সরাসরি জড়িত। এটি শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার নির্বাচন নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর এ নির্বাচন হচ্ছে, যা খরার পর বৃষ্টির মতো। এবার প্রথমবার কার্যকরভাবে পোস্টাল ব্যালট বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির দিক থেকেও এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা। ২০০৮ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনেও এমন প্রযুক্তিগত পরিবেশ ছিল না।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, মাঠ পর্যায়ে সবার ঐক্যবদ্ধ কাজই একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মূল ভিত্তি। ফেনী জেলায় এখন পর্যন্ত সেই ঐক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতীতের তুলনায় আচরণবিধি মেনে চলার মানসিকতাও বেড়েছে, যা নির্বাচন পরিচালনাকে সহজ করেছে। এ নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মানুষের যেন নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার সুযোগ থাকে, সেটিই সবার মূল লক্ষ্য। এর ব্যত্যয় ঘটলে নির্বাচন অর্থবহ হবে না। ভালো নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো ভালো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এজন্য সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। হারিয়ে যাওয়া আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই।

ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। সভায় সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, জেলার ছয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ছিলেন।