রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে শুনানি চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসি বাংলা।

এদিন দুপুরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের মিলনায়তনে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আপত্তির শুনানি শুরু হয়। এ সময় সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও চার কমিশনার এবং ইসি সচিব ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের দাবি-আপত্তির শুনানিতে অংশ নিয়ে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ইসির প্রকাশিত খসড়ার পক্ষে তার যুক্তি তুলে ধরেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী এক নেতার অনুসারীরাসহ বেশ কয়েকজন খসড়ার বিরোধিতা করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিএনপি নেতা খুর্শিদ আলম, অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম ও অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেনসহ অন্যান্য বেশ কয়েকজন খসড়ার বিপক্ষে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। তাদের দাবি, বিজয়নগর উপজেলাকে অখণ্ড রাখতে হবে। বিজয়নগরের তিন ইউনিয়নবুধন্তি, চান্দুরা ও হরষপুরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন তারা।

এ নিয়ে দুই পক্ষ তর্ক-বিতর্কে জড়ায়। এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও ধাক্কা দেয়ার অভিযোগ উঠে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় দুই পক্ষের সমর্থকরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসন দুটির শুনানি সংক্ষিপ্ত করে উভয় পক্ষগুলোকে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়।

এ উত্তেজনা এক সময় নির্বাচন ভবনের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও হট্টগোল করেন দুই পক্ষের সমর্থকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক পক্ষকে ফটকের সামনে থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ সদস্যরা।

গত ৩০ জুলাই ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুননির্ধারণ করে খসড়া প্রকাশ করে ইসি। এর মধ্যে ৮৩টি সংসদীয় এলাকার সীমানা নিয়ে দেড় হাজারের বেশি দাবি-আপত্তির আবেদন জমা হয় নির্বাচন কমিশনে।

এসব আবেদন নিয়ে আজ শুনানি শুরু হয়েছে। এ শুনানি চলবে আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত।