ফরিদপুরে স্টপেজ পেয়েছে চন্দনা কমিউটার ট্রেন। গতকাল প্রথমবারের মতো ফরিদপুর স্টেশনে থামে ট্রেনটি। ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে ট্রেনটি পৌঁছালে স্বাগত জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানে ২ মিনিট অবস্থানের পর যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ট্রেনটি।

স্টপেজের দাবিতে আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট থাকা মো. সেলিম মিয়া বলেন, ‘এটি আমাদের দুই মাসের আন্দোলনের ফসল। ট্রেনটি ফরিদপুরের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু কোনো স্টপেজ ছিল না। ফরিদপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, তরুণ সমাজের আন্দোলনে আজ তা বাস্তবায়ন হয়েছে।’

তরুণ সংগঠক আবরার নাদিম ইতু বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের সফলতা পেয়েছি। ফরিদপুরে স্টপেজ থাকায় আমরা সকালে ঢাকায় অফিসও করতে পারব। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে সন্ধ্যায় আবার ফিরেও আসতে পারব।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর রেল স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার সুজাত আলী সরদার বলেন, ‘সপ্তাহে শুক্রবার ব্যতিত ছয়দিন ট্রেনটি চলবে এবং ফরিদপুর স্টেশনে থামবে। এ বিষয়ে গত সোমবার রাতে আমরা নির্দেশনা পেয়েছি। ট্রেনটি প্রতিদিন রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে ফরিদপুর স্টেশনে পৌঁছাবে। সেখানে ২ মিনিট অবস্থান করে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। তবে ফরিদপুর স্টেশন থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত টিকিট পাওয়া যাবে, এর ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ টাকা। তবে ভাঙ্গায় গিয়ে ট্রেনটির নাম পরিবর্তন হওয়ায় নতুন করে টিকিট কেটে নিতে হবে। একইভাবে ট্রেনটি ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টায় ছেড়ে আসবে এবং রাত ৮টায় ফরিদপুরে পৌঁছবে।’

এর আগে ৪ মে মাদারীপুরের শিবচরে এক অনুষ্ঠানে রাজবাড়ী-ভাঙ্গা-রাজবাড়ী রুটে চন্দনা কমিউটার ও ভাঙ্গা-ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে ভাঙ্গা এক্সপ্রেস নামে দুটি কমিউটার ট্রেন উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম। চন্দনা কমিউটার ট্রেনটি ফরিদপুর স্টেশন হয়ে গেলেও স্টপেজ ছিল না। স্টপেজ দাবিতে মানববন্ধন, ট্রেন অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে ফরিদপুরের সর্বস্তরের মানুষ।