পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা নয় মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আগামী ১ নভেম্বর পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপটিতে দিনে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাতায়াত করতে পারবে। এছাড়া প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। গতকাল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াতের বিষয়ে ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর সেন্ট মার্টিনে নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজের চলাচল অব্যাহত থাকবে।
চিঠিতে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ২৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াতসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের সব নির্দেশনা বহাল থাকবে।
২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বরে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করতে পারবে। একই দিন তাদের ফিরে আসতে হবে; রাতযাপনের সুযোগ থাকবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দ্বীপে রাতযাপন করা যাবে। তবে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করতে পারবে না। ফেব্রুয়ারিতে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকবে। তবে প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার অনুমতির সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে অফিস আদেশে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেন্ট মার্টিনে প্রতিদিন পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যেতে পারবে।
আর পর্যটকেরা সেন্ট মার্টিনে রাতযাপন করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে অফিস আদেশে কিছু বলা হয়নি। এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপন করা যাবে। সে অনুযায়ী নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে।’
চিঠিতে বলা হয়, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি পর্যটকপ্রতি ১০০ টাকা করে দিতে হবে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৬-এর বিধি-২৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিধি ২৬-এ ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় সমীক্ষা, গবেষণা, অনুসন্ধান, ইত্যাদি’ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ বা খনিজ সম্পদ বিষয়ে কোনো অনুসন্ধান, সমীক্ষা বা গবেষণা পরিচালনা করিতে ইচ্ছুক হইলে তাহাকে অধিদপ্তরের অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় কোনো অনুসন্ধান, সমীক্ষা বা গবেষণা পরিচালনার ক্ষেত্রে অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত ফি প্রদান করিতে হইবে।’
প্রসঙ্গত, চার বছর আগেও টেকনাফ থেকে প্রতিদিন ৯-১১টি জাহাজে পাঁচ-ছয় হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিনে যেত। ১৩ কিলোমিটারের নাফ নদী, ২১ কিলোমিটারের বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে পর্যটকেরা সেখানে পৌঁছাত। কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, সেখানকার সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রাখাইন রাজ্যে চলে যাওয়া, নাফ নদীতে চলাচলকারী বাংলাদেশী ট্রলার ও যাত্রীবাহী নৌযানে গুলিবর্ষণ, নৌকাসহ বাংলাদেশীদের অপহরণসহ নানা ঘটনায় টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়।










