দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বাড়ায় একদিনের ব্যবধানে পাইকারিতে দাম কমেছে কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা। একদিন আগেও বন্দরে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ২১ থেকে ২২ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিল। তবে আজ শুক্রবার তা কমে ১৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। পাশাপাশি নাসিক জাতের পেঁয়াজ ২৬ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। দাম কমায় খুশি নিম্নআয়ের মানুষসহ বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকাররা।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক বাবলুর রহমান বলেন, হঠাৎ দেশের বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়ে যায়।  গত ৪ জুলাই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। ফলে দুই মাস বন্ধের পর ৫ জুলাই থেকে হিলিসহ দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হয়। মাঝে ঈদের ছুটির কারণে টানা আট দিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ ছিল। একইভাবে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়েও আমদানি বন্ধ ছিল। ঈদের ছুটির পর আবারও সবগুলো বন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও ভারতের বাজারে দাম কম হওয়ায় আমদানিকারকরা পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজের জন্য এলসি খুলেছেন। ভারতে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ লোডিং হয়েছে আমাদের। দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ দেশে ঢুকছে। কিন্তু সেই তুলনায় দেশের আড়ৎগুলোতে পেঁয়াজের চাহিদা তেমন নেই। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। 

তিনি আরো বলেন, এছাড়া ভারতের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ পেঁয়াজ লোডিং অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো এলে দাম আরও কমে যাবে। একইসঙ্গে দেশি পেঁয়াজের দাম মোকামে মণপ্রতি ৪০০-৫০০ টাকা করে কমেছে। যে পেঁয়াজ আগে প্রতিমণ এক হাজার ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ছিল বর্তমানে তা কমে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সে জন্য আমদানিকৃত পেঁয়াজেরও দাম কমেছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ঈদের ছুটি শেষে ১৬ জুলাই থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। ওই দিন বন্দর দিয়ে ২৮টি ট্রাকে ৭৮৩ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল।পরদিন রবিবার বন্দর দিয়ে ৩২টি ট্রাকে ৮৫৮ টন, সোমবার ১৭টি ট্রাকে ৪৮০ টন, মঙ্গলবার ২৭ ট্রাকে ৭৭৪ টন, বুধবার ২৮টি ট্রাকে ৮১৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। বৃহস্পতিবার একদিনে ৪৬ ট্রাকে এক হাজার ৩৭৫ টন আমদানি হয়েছে। পেঁয়াজ কাঁচা পণ্য, তাই কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া শেষে আমদানিকারকরা যাতে দ্রুত খালাস নিতে পারেন সে জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে রেখেছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারো আমদানি রফতানি শুরু হয়েছে। এদিন বন্দর দিয়ে ২৮টি ট্রাকে ৭৮৩টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। রোববার বন্দর দিয়ে ৩২টি ট্রাকে ৮৫৮টন, সোমবার ১৭টি ট্রাকে ৪৮০টন, মঙ্গলবার ২৭ট্রাকে ৭৭৪টন, বুধবার ২৮টি ট্রাকে ৮১৫টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার একদিনেই ৪৬টি ট্রাকে একহাজার ৩৭৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।