নড়াইল সদর উপজেলার মূলদাইড় তালতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে কয়েক বছর আগে চারবার শতভাগ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছিল। কিন্তু এ বছর বদলে গেছে সেই চিত্র। এবার এসএসসি পরীক্ষায় তিনজন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। তিনজনই অকৃতকার্য হয়েছে। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের তালিকায় প্রতিষ্ঠানটি তিনটি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের একটি।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় এ বোর্ডের অধীন অংশ নেয় ২ হাজার ৫৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ১৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। তবে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ কৃতকার্য হতে পারেনি। তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলার মূলদাইড় তালতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ও রয়েছে। এ বিদ্যালয় থেকে মাত্র তিনজন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তারা সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে শূন্য পাসের তালিকায় এ প্রতিষ্ঠানের নাম উঠেছে। 

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে মূলদাইড় তালতলা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা বোর্ডের একাডেমিক স্বীকৃতি পায়। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। বিদ্যালয়ে আট শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। তবে এখনো বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়নি।

সূত্র জানায়, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীতে ১২ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। এর মধ্যে নয়জনের বাল্যবিবাহ হয়ে যায়। বাকি তিনজন পরীক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়ে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষার ফলাফলে তারা তিনজনই অকৃতকার্য হয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে আসছে। এর মধ্যে ২০১৩, ১৪, ১৬ এবং ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয় থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করে। ২০২০ সালে ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে নয়জন, ২০২১ সালে সাতজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সাতজন এবং ২০২২ সালে তিনজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে দুজন পাস করে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল আলীম ফকির বলেন, ‘২০০৬ সাল থেকে বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংগ্রহণ করছে। এই পর্যন্ত কোনো খারাপ ফল হয়নি। চারবার এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয় থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এবার যারা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে নবম শ্রেণীতে পড়াকালীন তাদের মোট ১২ জন নিবন্ধন করেছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে নয়জনের বাল্যবিবাহ হয়ে যায়। তারা আর পরীক্ষা দেয়নি। তিনজন পরীক্ষার্থী মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তারা অকৃতকার্য হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা পকেটের টাকা ব্যয় করে বিদ্যালয়টি চালু রেখেছেন। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।  কিন্তু এখন আর চলা যাচ্ছে না। আমরা খুবই কষ্টের মধ্যে আছি।’

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিশ্বাস শাহীন আহমেদ বলেন, ‘নড়াইল সদর উপজেলার মূলদাইড় তালতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় তিনজন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু তারা সবাই অনুত্তীর্ণ হয়েছে। বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হবে। কারণ দর্শানোর জবাব পাওয়ার পর সুপারিশসহ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।’